একসময় গ্রামবাংলার মানুষের কাছে দাঁত পরিষ্কারের অন্যতম প্রধান উপকরণ ছিল নিমের ডাল। আধুনিক টুথব্রাশ ও টুথপেস্টের প্রচলন না থাকলেও অনেকের দাঁত ও মাড়ি দীর্ঘদিন সুস্থ থাকত। এর পেছনে নিমের ডালের বিশেষ কিছু গুণ রয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

পুষ্টিবিদদের মতে, নিমের ডালে প্রাকৃতিকভাবে এমন কিছু উপাদান ও তৈলাক্ত পদার্থ থাকে, যা মুখগহ্বরে থাকা ক্ষতিকর জীবাণু, ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি দমন করতে সহায়তা করে। ফলে দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখতে এটি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।
সুস্থ শরীরের জন্য মুখ ও দাঁতের পরিচর্যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দাঁতের সমস্যা অবহেলা করলে তা ধীরে ধীরে বড় ধরনের জটিলতায় রূপ নিতে পারে। তবে কিছু প্রাকৃতিক উপায় অনুসরণ করেও দাঁতের যত্ন নেওয়া সম্ভব। এর মধ্যে নিমের ডাল দিয়ে দাঁত মাজা একটি পুরোনো কিন্তু কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে পরিচিত।
বাজারে পাওয়া বিভিন্ন মাউথ ফ্রেশনার বা কৃত্রিম উপকরণ সাময়িকভাবে মুখের দুর্গন্ধ কমাতে সাহায্য করলেও সেগুলো সব সময় দীর্ঘমেয়াদি সমাধান দিতে পারে না। অন্যদিকে নিমের ডাল নিয়মিত ব্যবহার করলে দাঁত ও মাড়ির স্বাভাবিক স্বাস্থ্য রক্ষায় উপকার পাওয়া যেতে পারে।
নিমের ডাল ব্যবহারের সম্ভাব্য উপকারিতার মধ্যে রয়েছে—
* মাড়ির ফোলা ও প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে।
* মাড়িকে শক্ত ও সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
* মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
* দাঁতের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
* মুখগহ্বরে ক্ষতিকর জীবাণুর বিস্তার কমাতে সাহায্য করে।
তবে নিমের ডাল ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতাও মানা প্রয়োজন। ব্যবহারের আগে ডালটি ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে। এছাড়া ডালের এক প্রান্ত ভালোভাবে চিবিয়ে আঁশযুক্ত করে নিতে হবে, যাতে তা দাঁত পরিষ্কারের উপযোগী হয়।
অনেকের মতে, নিমের ডাল ব্যবহারের আগে সরিষার তেল ও সামান্য লবণ দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করলে আরও ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে। তবে দাঁত ও মাড়ির কোনো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা থাকলে অবশ্যই দন্তচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।



