সকালে আম্মু গরম পানি দিয়ে গোসল করিয়ে নতুন জামা পরিয়ে আতর মেখে দিতেন। নানি হাতের মুঠোয় গুঁজে দিতেন সালামি। তারপর নানা–মামাদের সঙ্গে দল বেঁধে ঈদগাহে যেতাম। নামাজ শেষে সবাই একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করতাম।
গ্রামের সেই ঈদের মাঠ, মানুষের হাসিমুখ আর চারপাশের উৎসবমুখর পরিবেশ আজও চোখে ভাসে। মেলা থেকে বাঁশি, খেলনা, মিষ্টি, রঙিন বেলুন কিনে বাড়িতে ফিরতাম আনন্দভরা মন নিয়ে। দুপুরে সবাই একসঙ্গে বসে খাওয়া, গল্প–হাসির শব্দে পুরো বাড়ি মুখর হয়ে থাকত।
এখন সবাই বড় হয়েছি। জীবিকার তাগিদে ছড়িয়ে গেছি। খালাম্মার বিয়ে হয়েছে, ছোট মামারও সংসার হয়েছে, শুধু বড় মামা আর নেই। তাঁর শূন্যতা আজও প্রতি ঈদে শৈশবের আনন্দকে নীরব করে দেয়। আজও নানাবাড়িতে গেলে পুরোনো উঠান, মাঠ আর স্মৃতিগুলো বুকের ভেতর অদ্ভুত এক শূন্যতা জাগিয়ে তোলে।
বন্ধু, কুষ্টিয়া বন্ধুসভা



