
ঢাকা, ৭ মে – দেশের নাগরিকদের অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য অবৈধভাবে সংগ্রহ ও অর্থের বিনিময়ে বিক্রির অভিযোগে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। গ্রেফতার শিক্ষার্থীর নাম মো. আরমান হোসেন।তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ছাত্র বলে জানা গেছে। তার বাড়ি জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থানার রামরামপুর ইউনিয়নের উত্তর রহিমপুর এলাকায়।
বৃহস্পতিবার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে মঙ্গলবার সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের একটি দল ডিএমপির ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন মানিকদি এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরমানকে গ্রেফতার করে।
তার কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন, তিনটি বিকাশ মার্চেন্ট সিম, ৬টি সিমকার্ড এবং একটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।
সিআইডি কর্মকর্তা জসীম উদ্দিন খান বলেন, গত বছরের ৯ অক্টোবর সিআইডির সাইবার মনিটরিং সেলের নিয়মিত অনলাইন মনিটরিংকালে একটি ফেসবুক আইডি নজরে আসে। সেখানে নাগরিকদের অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য যেমন জাতীয় পরিচয়পত্রের পূর্ণাঙ্গ ডেটা, এসএমএস তালিকা, বিকাশ ও নগদসহ বিভিন্ন এমএফএস অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য অর্থের বিনিময়ে বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সিআইডি অনুসন্ধান শুরু করে।
অনুসন্ধানকালে প্রাপ্ত তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ১৩ অক্টোবর রাতে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর থানা এলাকা থেকে সিয়াম হাওলাদার নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তার স্মার্টফোনে সব এখানে নামক একটি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ পাওয়া যায়। সিয়াম জিজ্ঞাসাবাদে এই অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের কথা স্বীকার করেন।
এ ঘটনায় পল্টন মডেল থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে সিয়ামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৮ অক্টোবর খুলনার কয়রা থেকে গ্রেফতার করা হয় চক্রের অন্যতম অ্যাডমিন আল আমিনকে। আল আমিন আদালতে জবানবন্দি দিয়ে জানান যে তিনি শুধু বিপণন দেখতেন কিন্তু পুরো সিস্টেম এবং অ্যাপটি তৈরি করেছেন একজন দক্ষ প্রোগ্রামার।
তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গত ৫ মে মানিকদি এলাকা থেকে আরমান হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। আরমান প্রোগ্রামিং এবং ওয়েব ডেভেলপিংয়ের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আল আমিনের নির্দেশনা অনুসারে বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অ্যাপ তৈরি করেন। পরবর্তীতে এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নাগরিকদের সংবেদনশীল তথ্য অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করা হতো।
পুলিশ জানায় যে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এসব গোপনীয় তথ্য অবৈধভাবে সংগ্রহ করে আসছিল এবং এই চক্রের কয়েকজনের সাথে আসামির যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এনএন/ ৭ মে ২০২৬






