নতুন নেতৃত্বে ইসরায়েলে প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালো ইরান

নতুন নেতৃত্বে ইসরায়েলে প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালো ইরান

ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নির্দেশনায় প্রথমবারের মতো ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। সোমবার (৯ মার্চ) এই হামলা চালানো হয় বলে নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
নতুন নেতৃত্বে ইসরায়েলে প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালো ইরান
সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে মোজতবা খামেনি দায়িত্ব গ্রহণ করার পর এটিই তার শাসনামলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তেহরানের প্রথম বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ। এই হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এক নতুন ও ভয়াবহ মোড় নিল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি তাদের অফিসিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক বার্তায় এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবরটি প্রথম প্রকাশ করে। এই প্রচারণার অংশ হিসেবে আইআরআইবি একটি বিশেষ ক্ষেপণাস্ত্রের ছবিও জনসমক্ষে প্রকাশ করেছে, যা বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে যে, ক্ষেপণাস্ত্রটির গায়ে বিশেষভাবে লেখা রয়েছে, ‘আপনার সেবায় প্রস্তুত, সাইয়্যিদ মোজতবা’। এই বার্তার মাধ্যমে মূলত নতুন নেতার প্রতি সশস্ত্র বাহিনীর আনুগত্য এবং তার অধীনে ইসরায়েলবিরোধী কঠোর সামরিক অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ ঘটানো হয়েছে।

বাহরাইনে ড্রোন হামলায় শিশুসহ আহত অন্তত ৩২

তেহরানের এই আকস্মিক ও শক্তিশালী আক্রমণ ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে ইরানের এই নতুন সামরিক রণকৌশল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পূর্ববর্তী প্রশাসনের তুলনায় তিনি আরও বেশি আগ্রাসী ভূমিকা পালন করতে পারেন।

বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বজায় রাখতে এবং ইসরায়েলি কর্মকাণ্ডের জবাব দিতে মোজতবা খামেনি সরাসরি সামরিক শক্তি ব্যবহারের পথ বেছে নিয়েছেন। এই ঘটনার পর পুরো অঞ্চলে যুদ্ধের দামামা আরও প্রকটভাবে বাজতে শুরু করেছে এবং বিশ্বনেতারা পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছেন।

ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া না গেলেও, জেরুজালেম ও তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহরে সতর্ক সংকেত বাজানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন যে, মোজতবা খামেনির এই প্রথম পদক্ষেপ কেবল একটি শুরু এবং ভবিষ্যতে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ছায়াযুদ্ধের পরিবর্তে সরাসরি সংঘাত আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

ওদিকে পশ্চিমারা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তেহরানকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, তবে ইরানের অভ্যন্তরে নতুন নেতার এই সাহসী পদক্ষেপকে একটি বড় বিজয় হিসেবে উদযাপন করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

Scroll to Top