মাঠে রেফারির শেষ বাঁশি বাজাতেই যেন বাঁধভাঙা উল্লাসে ফেটে পড়ল গোটা দেশ। মধ্যরাতের নীরবতা ভেঙে চারদিক মুখরিত হয়ে উঠল ‘আর্জেন্টিনা, আর্জেন্টিনা’ স্লোগানে। প্রত্যাবর্তনের মহাকাব্য লিখে আলবিসেলেস্তেদের দুর্দান্ত জয়ে দেশজুড়ে বিজয়োল্লাসে মেতে উঠেছেন কোটি আর্জেন্টাইন সমর্থক। গভীর রাতেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঢাক-ঢোল, ভুভুজেলা বাজিয়ে বের করা হয়েছে আনন্দ ও বিজয় মিছিল।
খেলার শুরু থেকেই দেশের প্রতিটি আনাচে-কানাচে, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার বড় পর্দায় ছিল উপচে পড়া ভিড়। টানটান উত্তেজনার প্রতিটি মুহূর্তে সমর্থকদের হৃদস্পন্দন যেন ওঠানামা করছিল। মিশরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর যেন স্তব্ধ হয়ে যায় সবকিছু।
এরপর ১৪ মিনিটের ঝড়, ৭৯ মিনিটে মেসির ক্রস থেকে ক্রিস্টিয়ান রোমেরুর গোলে ব্যবধান কমানো, ৫ মিনিট পর মেসির গোলে সমতায় ফিরতেই যেন প্রাণ ফিরে পায় আলবিসেলেস্তে সমর্থকরা। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে এনজো ফের্নান্দেজের গোলে বাধভাঙা উল্লাসে মাতে আর্জেন্টিনা সমর্থকরা। এরপর শেষ বাঁশির বাজতেই শুরু হয় আসল উদযাপন।
রাজধানী ঢাকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, টিএসসি, বুয়েট ক্যাম্পাস, মিরপুর, পুরান ঢাকা এবং ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় রাতারাতি রূপ নেয় উৎসবের নগরীতে। নীল-সাদা জার্সি পরা হাজারো সমর্থক রাস্তায় নেমে আসেন। আর্জেন্টিনা ও মেসির নাম ধরে স্লোগান, আতশবাজি আর পটকা ফোটানোর শব্দে কেঁপে ওঠে চারপাশ।
শুধু রাজধানীই নয়, ফুটবলের উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে ঢাকার বাইরেও। চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, ময়মনসিংহ এবং রংপুরসহ দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা শহরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের ঢল নেমেছে রাস্তায়। গভীর রাতেই শত শত মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে বিজয় র্যালি বের করেন সমর্থকরা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও এখন পুরোপুরি নীল-সাদা রঙে রঙিন। ম্যাচ শেষের পর থেকেই ওয়াল জুড়ে শুধুই লিওনেল মেসি এবং আর্জেন্টিনার ট্রফি জয়ের উল্লাসের ছবি-ভিডিওর জোয়ার। সব মিলিয়ে, প্রিয় দলের এই ট্রফি জয় দেশের আর্জেন্টাইন ভক্তদের মাঝে এমন এক উৎসবের জন্ম দিয়েছে, যা অনায়াসেই মনে করিয়ে দেয় ফুটবল নিয়ে বাঙালির চিরন্তন আবেগের কথা।



