নাটকের পর্দায় যেসব গল্প দেখে দর্শক অভিভূত হন, কখনো হাসেন, কখনো আবেগে ভাসেন— সেসব গল্পের নেপথ্যে থাকেন একজন নাট্যকার। সমকালীন বাংলা নাটকের তেমনই একজন পরিচিত ও সফল গল্পকার ছিলেন তানিন রহমান। কিন্তু সেই গল্পকারের কলম থেমে গেল চিরতরে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তিনি। নির্মাতা মাহমুদুর রহমান হিমি, অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্বসহ নাটকের বহু মানুষই তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন।
অপূর্ব অভিনীত বহু জনপ্রিয় নাটকের গল্প ও চিত্রনাট্য লিখেছেন তানিন। তাই এই তারকা অভিনেতা লিখেছেন, ‘আমার অসংখ্য নাটকের লেখক তানিন রহমান আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তানিন রহমানের মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত। অসংখ্য নাটকের গল্প ও চিত্রনাট্যে তার সঙ্গে কাজ করার স্মৃতি সবসময় মনে থাকবে।’
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন তানিন রহমান। কয়েকদিন আগে মিরপুর কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতালে তার কিডনি প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বুধবার সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ার পর তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। তবে বৃহস্পতিবার আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক করলে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
বৃহস্পতিবার বাদ এশা জুরাইন নোয়াখালী পট্টি জামে মসজিদে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখানকার পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নাট্যজগতে সক্রিয় ছিলেন তানিন রহমান। তার লেখা নাটকে অভিনয় করেছেন এ সময়ের প্রায় সব জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী। দর্শকপ্রিয় অসংখ্য নাটকের গল্প ও চিত্রনাট্য রচনা করেছেন তিনি।
তানিন রহমানের উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে—‘নিয়তি’, ‘মেঘের গল্প’, ‘আবারও’, ‘এই পথ যদি না শেষ হয়’, ‘লাল রঙা স্বপ্ন’, ‘শত ডানার প্রজাপতি’, ‘সেই ছেলেটা’, ‘তোমায় ভালোবেসে’, ‘প্রেম তুমি’, ‘ইন আ রিলেশনশিপ’, ‘এতটা ভালোবাসি’, ‘ভালোবাসার ফানুশ’, ‘নো’ ও ‘উৎসর্গ’।


