শুল্ক কমানো ট্রাম্পের একটি পদক্ষেপ হতে পারে, যা তাঁর ‘আগে আমেরিকা’ নীতির দিকে ফিরে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এটি এমন একটি বোঝাপড়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সাহায্য করবে। একই সঙ্গে তা ন্যাটোর একটি সদস্যরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনাকে প্রশমিত করবে।
উত্তর সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র কুর্দি মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোকে যে সমর্থন দিয়ে আসছে, তা দীর্ঘদিন ধরে তুরস্ককে দুশ্চিন্তায় রেখেছে। এটি যুক্তরাষ্ট্র-তুরস্ক সম্পর্ককে অস্থির করেছে। কারণ, আঙ্কারা কুর্দি পিপলস প্রটেকশন ইউনিটসকে (ওয়াইপিজি) অনেকটা পিকেকে ঘরানার সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে দেখে থাকে।
২০১৯ সালে ট্রাম্প উত্তর সিরিয়া থেকে সাময়িকভাবে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই ঘোষণা তুরস্ককে উত্তর সিরিয়ায় একটি ‘সুরক্ষিত অঞ্চল’ গড়ে তোলার সুযোগ দিয়েছিল। এখন ট্রাম্প ফিরে আসায় সেখান থেকে আরও এক দফা মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা রয়েছে। এটি করা হলে তা তুরস্কের নিরাপত্তা স্বার্থের সহায়ক হতে পারে। এটি দুই দেশের সম্পর্ককে জোরালো করতে পারে।
উত্তর সিরিয়ায় প্রায় ৯০০ মার্কিন সেনা আছে। সেখানকার স্থিতিশীলতার জন্য, বিশেষ করে দায়েশ (আইএস) মোকাবিলায় তাদের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। তা সত্ত্বেও ট্রাম্প সেখান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করে তথা সেখানে মার্কিন প্রভাব কমিয়ে তুরস্ককে সীমান্তের ওপর আগের চেয়ে বেশি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে। তবে এটি যুক্তরাষ্ট্র-তুরস্কের উত্তেজনা কমাতে সাহায্য করলেও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বদলে দেবে। এর ফলে কুর্দিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মৈত্রীর সম্পর্ক নষ্ট হতে পারে। আরেকটি বিষয় হলো, ন্যাটোতে তুরস্কের সদস্যপদ দেশটির প্রতিরক্ষাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পশ্চিমাদের সঙ্গে তুরস্কের সংযোগ রক্ষার অপরিহার্য মাধ্যম।



