টানা হামলার পরও ইরানে সরকার পতনের ঝুঁকি দেখছে না মার্কিন গোয়েন্দারা – DesheBideshe

টানা হামলার পরও ইরানে সরকার পতনের ঝুঁকি দেখছে না মার্কিন গোয়েন্দারা – DesheBideshe

টানা হামলার পরও ইরানে সরকার পতনের ঝুঁকি দেখছে না মার্কিন গোয়েন্দারা – DesheBideshe

ওয়াশিংটন, ১২ মার্চ – যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ইরানে সামরিক হামলা চালালেও অদূর ভবিষ্যতে সেখানে সরকার পতনের কোনো সম্ভাবনা দেখছে না মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। একাধিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এই মূল্যায়নের কথা জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি সূত্র রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে যে সাম্প্রতিক বিশ্লেষণগুলো অনুযায়ী ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। একই সাথে নিজ দেশের জনগণের ওপর সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় আছে বলে জানা গেছে। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার অনুমতি না থাকায় ওই সূত্রগুলো নিজেদের পরিচয় গোপন রেখেছে।

একজন ঊর্ধ্বতন ইসরায়েলি কর্মকর্তাও রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে তাদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় এটি স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। চলমান এই যুদ্ধের ফলে ইরানে ধর্মীয় নেতাদের নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটবেই এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো একটি বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক করেছে যে মাঠপর্যায়ের অবস্থা খুব দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। এর ফলে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের কার্যালয় এবং সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, পারমাণবিক স্থাপনা এবং দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। যুদ্ধের প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জনগণকে নিজেদের সরকার নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

কিন্তু পরবর্তীতে তার শীর্ষ পর্যায়ের সহকারীরা জানান যে ইরানের বর্তমান নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করা এই অভিযানের মূল লক্ষ্য নয়। এসব হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছাড়াও অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির উচ্চপদস্থ কমান্ডার নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

এ এম/ ১২ মার্চ ২০২৬



Scroll to Top