
বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় নতুন সূত্র পেয়েছে মুম্বাই পুলিশ। হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি শনাক্ত করার পর তিন অভিযুক্তের গতিবিধি অনুসরণ করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মোটরসাইকেলটি ১১ সেপ্টেম্বর কেনা হয়েছিল। এটি হামলার জন্যই কেনা হয়েছিল, নাকি আগে থেকেই ঘটনাস্থলে নজরদারির কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি বাজাজ পালসার ২২০ মডেলের বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশের দাবি, হৃতিক ওরফে রোশন নামের এক অভিযুক্ত মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন। অন্য দুই অভিযুক্ত রেহান ও ফুল সিং গুলি চালান বলে অভিযোগ।
সোমবার সকালে রাজস্থানের কোটা রেলস্টেশনে পুনে-জয়পুর সুপারফাস্ট এক্সপ্রেসের সাধারণ কামরা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সকাল ১০টা ১৭ মিনিটে ট্রেনটি স্টেশনে পৌঁছালে প্রায় ১৫ মিনিটের অভিযানে তাদের আটক করে পুলিশ। পরে কোটা পুলিশ তাদের মুম্বাই পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত হৃতিক বিহারের বেগুসরাইয়ের বাসিন্দা। রেহান ও ফুল সিং হরিয়ানার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে একজনের বয়স ১৮ বছর এবং অন্য দুজনের বয়স ২২ বছর। তিনজনই প্রাপ্তবয়স্ক বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এর আগে তাদের একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল।
মুম্বাই পুলিশের উপকমিশনার রাজ তিলক রৌশন জানান, আন্ধেরি পশ্চিম রেলস্টেশনের কাছে হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটির সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর অভিযুক্তদের গতিবিধি অনুসরণ করে পুলিশ। তারা উত্তর মুম্বাই হয়ে সুরাটের দিকে গিয়েছিলেন। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, তারা পুনে-জয়পুর এক্সপ্রেসে উঠেছেন। এ ঘটনায় তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ দমন শাখার প্রায় ২০টি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছিল।
তদন্তে রেহানের সঙ্গে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সহযোগী অনিল পণ্ডিতের যোগাযোগের তথ্য পেয়েছে পুলিশ। হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে হামলার দায় স্বীকারের দাবি করা হয়েছে। তবে পোস্টটির সত্যতা নিশ্চিত হয়নি।
অনিল পণ্ডিতের নামে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও রেকর্ডিংয়েও হামলার কারণ হিসেবে সালমান খানের সঙ্গে কাজ না করার বিষয়ে দেওয়া সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার কথা বলা হয়েছে। তবে রেকর্ডিংটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি এনডিটিভি।
অডিওতে সালমান খানের কাছে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং ও বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়। ১৯৯৮ সালে কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালমান খানের সঙ্গে বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের বিরোধের প্রসঙ্গও এতে উঠে আসে। ওই সম্প্রদায়ের কাছে কৃষ্ণসার হরিণ পবিত্র বলে বিবেচিত।
অডিওতে আরও হুমকি দেওয়া হয়েছে, সালমান খানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, চলচ্চিত্রজগতের এমন অন্য ব্যক্তিরাও হামলার লক্ষ্য হতে পারেন।
তবে টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় অভিযুক্তদের সঙ্গে গ্যাংটির সম্পৃক্ততা এবং হামলার পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তদন্ত এখনো চলছে। এনডিটিভি
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…

