জেনে নিন, সর্বোচ্চ বেহেশত ‘ফেরদাউস’ পাওয়ার ৫ আমল

জেনে নিন, সর্বোচ্চ বেহেশত ‘ফেরদাউস’ পাওয়ার ৫ আমল

ইমাম ইবনুল কাইয়িম লিখেছেন যে সৃষ্টিজগতের মধ্যে সবচেয়ে পবিত্র, উজ্জ্বল, সম্মানিত ও সর্বোচ্চ স্থান হলো পরম দয়াময় আল্লাহর আরশ। তাই কোনো সৃষ্টি বা স্থান আরশের যত কাছাকাছি হবে, তা তত বেশি আলোকিত, বিশুদ্ধ ও মর্যাদাবান হবে। এই কারণেই ফেরদাউস হলো বেহেশতের সেরা অংশ, কারণ তার ছাদ হলো আল্লাহর আরশ। (ইবনুল কাইয়িম, আল-ফাওয়াইদ, পৃষ্ঠা ২৭, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ১৯৭৩)

ফেরদাউস অর্জনের ৫ আমল

সর্বোচ্চ বেহেশচ ফেরদাউস পাওয়ার জন্য প্রাত্যহিক জীবনে পাঁচটি বিশেষ আমল অভ্যাস করা যেতে পারে:

১. সুদৃঢ় ইমান ও সৎকর্ম: কোরআনে বলা হয়েছে, নিশ্চয়ই যারা ইমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তাদের আপ্যায়নের জন্য রয়েছে ফেরদাউস বেহেশতে। (সুরা কাহফ, আয়াত: ১০৭)

সাধারণ ইমানদাররা উচ্চ মর্যাদার বেহেশতিদের এতটাই উঁচুতে দেখতে পাবে, যেমন মানুষ পূর্ব বা পশ্চিম দিগন্তে জ্বলজ্বলে তারা দেখে।

সাহাবিরা জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘আল্লাহর রাসুল, ওই উঁচু স্থানগুলো কি শুধু নবীদের জন্য নির্ধারিত?’ তখন মহানবী (সা.) উত্তর দিয়েছিলেন, না, সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, তারা হলো সেইসব মানুষ যারা আল্লাহর ওপর সুদৃঢ় ইমান এনেছে এবং রাসুলদের বাণী সত্য বলে মেনে নিয়েছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩২৫৬)

২. বেশি বেশি সেজদা করা: সাহাবি রবিআ ইবনে কাব আসলামি (রা.) নবীজির খেদমত করতেন। একদিন মহানবী (সা.) সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে কিছু চাইতে বললেন।

রবিআ বললেন, ‘আমি বেহেশতে আপনার সঙ্গ চাই।’ নবীজি বললেন, তবে বেশি বেশি সেজদা করে এই কাজে আমাকে সাহায্য করো। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪৮৯)

জীবনের প্রতিটি অর্জনে শুকরিয়ার সেজদা দেওয়া ও নফল নামাজের মাধ্যমে সেজদার সংখ্যা বাড়ানো ফেরদাউসের পথ সুগম করে।

৩. এতিমের দায়িত্ব নেওয়া: মহানবী (সা.) নির্দেশ করেছেন, যে ব্যক্তি কোনো এতিমের দায়িত্ব নেয়—সে তার নিজের আত্মীয় হোক বা অনাত্মীয়, আমি এবং সে বেহেশতে এই দুটির মতো পাশাপাশি থাকব (শাহাদাত ও মধ্যমা আঙুল দিয়ে ইঙ্গিত করে দেখালেন)। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৯৮৩) 

বেহেশতে নবীজির পাশে থাকার অর্থই হলো সর্বোচ্চ বেহেশত ফেরদাউসে স্থান পাওয়া।

Scroll to Top