জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল রাখল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট | চ্যানেল আই অনলাইন

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল রাখল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট | চ্যানেল আই অনলাইন

যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার বহাল রেখেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) আদালতের দেওয়া এক ঐতিহাসিক রায়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার বিতর্কিত নির্বাহী আদেশকে অসাংবিধানিক ও অবৈধ ঘোষণা করেছেন বিচারপতিরা।

নয় সদস্যের সুপ্রিম কোর্টে ৬-৩ ভোটের ব্যবধানে এ রায় দেওয়া হয়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত লাখো অনথিভুক্ত অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার বহাল থাকছে।

সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত লিখেছেন প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস। তার সঙ্গে একমত হন বিচারপতি সোনিয়া সোটোমেয়র, এলেনা কাগান, কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন, অ্যামি কোনি ব্যারেট এবং ব্রেট কাভানফ। অন্যদিকে বিচারপতি ক্ল্যারেন্স থমাস, স্যামুয়েল আলিটো ও নিল গোরসাচ ভিন্নমত দেন এবং ট্রাম্পের অবস্থানকে সমর্থন করেন।

রায়ে প্রধান বিচারপতি রবার্টস বলেন, মার্কিন সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনী অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া প্রত্যেক শিশুই জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারী। কোনো প্রেসিডেন্ট নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সংবিধানপ্রদত্ত এই অধিকার বাতিল করতে পারেন না। তিনি আরও বলেন, নাগরিকত্ব হলো অন্যান্য অধিকার ভোগের ভিত্তি। এটি রাষ্ট্র ও সমাজে পূর্ণাঙ্গভাবে অংশগ্রহণের সাংবিধানিক নিশ্চয়তা দেয়। সংবিধান প্রণেতারা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আদালত আজ তা পুনর্ব্যক্ত করল।

দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে ট্রাম্প ওই নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল, অনথিভুক্ত অভিবাসী কিংবা অস্থায়ী ভিসাধারী বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্বের সুযোগ বন্ধ করা। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সাংবিধানিক সুরক্ষা কেবল মার্কিন নাগরিক ও বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের সন্তানদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হওয়া উচিত। তবে মানবাধিকার সংগঠন এবং কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট অ্যাটর্নি জেনারেল এ আদেশের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করলে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে গড়ায়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির জন্য একটি বড় আইনি ও রাজনৈতিক ধাক্কা। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কসংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাতিল করেছিল সুপ্রিম কোর্ট।

এদিকে একই দিনে সুপ্রিম কোর্ট আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় দেন। এক রায়ে নারী ক্রীড়াবিদদের প্রতিযোগিতায় রূপান্তরকামী (ট্রান্সজেন্ডার) খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ সীমিত করে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইন বহাল রাখা হয়। অপর এক রায়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যয়ের ওপর বিদ্যমান একটি পুরোনো আইনি সীমাবদ্ধতা বাতিল করা হয়।

Scroll to Top