তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, জনগণের আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতিফলনে ফাহমিদা হক দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন এবং জাতীয় সংসদে তার কার্যক্রম জাতির কাছে গর্বের বিষয় হয়ে উঠবে।
বুধবার রাতে রাজধানীর গুলশানের একটি পাঁচতারকা হোটেলে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সম্প্রতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন ফাহমিদা হক।
ফাহমিদা হককে অভিনন্দন জানাতে এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে চ্যানেল আই। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর এবং তার স্ত্রী কণা রেজার তত্ত্বাবধানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের কল্যাণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ফাহমিদা হক ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবেন। তিনি জনগণের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রেখে তাদের সমস্যা সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ফাহমিদা হকের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।
ফাহমিদা ছোটবেলা থেকেই মেধা ও মননে অনন্য ছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে ফাহমিদা হকের মতো প্রতিনিধিরা সংসদে সক্রিয় ভূমিকা রাখলে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো আরও সুদৃঢ় হবে।
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, দেশ, জনগণ এবং বিশেষ করে শিশুদের অধিকার ও কল্যাণে ফাহমিদা হক সত্যনিষ্ঠ ও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন।
প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ আশা প্রকাশ করেন, দেশের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ফাহমিদা হক ও তার স্বামী জিল্লুর রহমান একসঙ্গে কাজ করবেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক ও ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ফাহমিদা হক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
অনুষ্ঠানে ফাহমিদা হকের স্বামী, চ্যানেল আইয়ের জনপ্রিয় টকশো ‘তৃতীয় মাত্রা’র উপস্থাপক ও পরিচালক জিল্লুর রহমান বলেন, আমাদের সম্পর্ক পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্মানের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।
তিনি ফাহমিদা হকের সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করেন এবং তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
ফাহমিদা হক বলেন, এই আয়োজন আমার জন্য পরম পাওয়া। আমার কাজের পরিসরে সব সময় গণতন্ত্র, সুশাসন, বাকস্বাধীনতা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং অধিকারের বিষয়গুলো মুখ্য ছিল। এগুলো যদি রাজনৈতিক বিষয় হয় তাহলে আমি রাজনীতির সাথে গভীরভাবে যুক্ত আছি। সর্বোপরি আমরা সবাই চাই একটি আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। আয়োজনে উপস্থিত সকলের উৎসাহ আমার নতুন যাত্রাপথে সাহস ও অনুপ্রেরণা যোগাবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ, পরিচালক জহিরউদ্দিন মাহমুদ, পরিচালক মুকিত মজুমদার বাবু, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মুক্তাদির, বিশিষ্ট রন্ধনশিল্পী কেকা ফেরদৌসীসহ বিভিন্ন দূতাবাস ও কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন খায়রুল বাশার ও সামান্তা ইসলাম। আয়োজনের শুরুতে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান পরিবেশন করেন রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের অধ্যাপক অনিমা রায়।
ফাহমিদা হকের রাজনৈতিক যাত্রা ঘিরে আয়োজিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং তার প্রতি বিভিন্ন মহলের প্রত্যাশা ও আস্থার প্রতিফলন হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।




