প্রথমত, রোগীকে রোগ সম্পর্কে সম্যক ধারণা পেতে হবে। বুঝতে হবে, চোখে সংবেদনশীল এলাকায় জলীয় পদার্থ জমেছে বা সহজ কথায় তরল জমেছে। মাটিতে পানি জমে থাকলে আস্তে আস্তে তা শুকিয়ে যায়। তেমনি নতুন করে কোনো শিরা লিক না করলে যেটুকু পানি জমেছে তা ধীরে ধীরে আপনা-আপনিই শুকিয়ে যাবে। তাই ভয়ের কারণ নেই। যেহেতু হঠাৎ দুশ্চিন্তা এ রোগের অন্যতম কারণ, তাই রোগীকে অবশ্যই দুশ্চিন্তা দূর করতে হবে।
দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ কমানোর ওষুধ, কিছু প্রদাহ নিরোধক চোখের ড্রপ, ভিটামিন সি, তাজা ফলমূল গ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুম, লাইফস্টাইল পরিবর্তন করলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন নয়। তবে সুস্থ হতে সময় লাগে। ক্ষেত্রবিশেষ দুই মাসও লাগতে পারে।
অনেকের পক্ষে এই সময় বেশি দীর্ঘ ও কষ্টকর মনে হলে বা অস্বস্তি বেশি হলে চোখের অ্যানজিওগ্রাফি, ওসিটি করার পরে লিক হওয়া এলাকা নির্ধারণ করে স্বল্প তাপের লেজার চিকিৎসা করা যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে অ্যান্টিভিইজিএফ ইনজেকশন কার্যকরী বলে প্রমাণিত হয়েছে।
চোখে শিরা লিক করে পানি জমা সেরে যাওয়ার পরও ভবিষ্যতে এই সমস্যা আবার হতে পারে, এটাও রোগীকে বুঝতে হবে। তাই দুশ্চিন্তা কমানো ও স্ট্রেসবিহীন জীবনযাপনের অভ্যাস করা জরুরি।
সমস্যাটি নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই। আবার হালকাভাবে নেওয়াও উচিত নয়। মনে রাখতে হবে, এটি চোখের সবচেয়ে সংবেদনশীল এলাকা আক্রান্ত করে। চিকিৎসা না নিলে অনেক সময় ভবিষ্যতে দৃষ্টির স্থায়ী সমস্যা হতে পারে।
লেখক: ডা. আহসান কবির, চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও ফেকো সার্জন, যশোর