
বেইজিং,২০ সেপ্টেম্বর- দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধপূর্ণ সাবিনা শোলের কাছে ফিলিপাইনের একটি জ্বালানি সরবরাহকারী নৌযানে জোরে ধাক্কা দিয়েছে চীনের কোস্টগার্ড। গত শুক্রবারের এ ঘটনায় ফিলিপাইনের জাহাজটির ডেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ফিলিপাইন কোস্টগার্ডের অভিযোগ, মানবিক কাজে নিয়োজিত তাদের ওই বেসামরিক সরকারি নৌযানে চীনের কোস্টগার্ড ইচ্ছা করেই ধাক্কা দিয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে চীন বলেছে, বারবার সতর্ক করার পরও ফিলিপাইনের জাহাজটি হঠাৎ সামনে চলে আসায় এ ঘটনা ঘটেছে।
ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ জানায়, পালাওয়ান উপকূল থেকে ৫৪ নটিক্যাল মাইল দূরে স্থানীয় জেলেদের জন্য জ্বালানি নিয়ে যাওয়ার সময় ‘বিআরপি ডাতু মাগাত সালামাত’ নৌযানটি সংঘর্ষের মুখে পড়ে। ভিডিওতে দেখা গেছে, বেলা ১১টার কিছু পর সংঘর্ষের ঠিক আগে নৌযানের সদস্যরা ‘আঘাতের জন্য প্রস্তুত হও’ বলে চিৎকার করছিলেন। একই সঙ্গে জাহাজের কর্মচারীদের শক্তভাবে ধরে থাকার জন্যও বলা হচ্ছিল। ধাক্কায় নৌযানটির সুরক্ষা রেলিং ও ডেক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও জাহাজে থাকা নাবিকদের কোনো ক্ষতি হয়নি।
অন্যদিকে, চীনা কোস্টগার্ডের বিবৃতিতে বলা হয়, সাবিনা শোলের কাছে নিজেদের জলসীমায় আইন প্রয়োগকারী বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছিল। এ সময় ফিলিপাইনের জাহাজটিকে বারবার সতর্ক করা হয়েছিল। তবে ফিলিপাইনের জাহাজটি ইচ্ছা করে গতিপথ পরিবর্তন করে হঠাৎ গতি বাড়িয়ে চীনা কোস্টগার্ডের জাহাজের সামনে চলে আসে। তাদের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চীনা কোস্টগার্ড পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছে এবং এ ঘটনার জন্য ফিলিপাইনই দায়ী।
এ ঘটনার পর ম্যানিলায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত লি লিপ্টন চীনের এ পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। এর জবাবে সেখানে থাকা চীনা দূতাবাস মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে সংঘাত উসকে দেওয়ার পাল্টা অভিযোগ করেছে।
এর আগে, গত জুলাই মাসেও দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধপূর্ণ স্কারবোরো শোলের কাছে সরকারি জাহাজে জলকামান নিক্ষেপ এবং এক নৌসেনাকে আহত করার অভিযোগ তুলেছিল ম্যানিলা। স্কারবোরো শোল ফিলিপাইনের প্রধান দ্বীপ লুজান থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং চীনের হাইনান দ্বীপ থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
অন্যদিকে, সাবিনা শোল দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জ এলাকায় অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রবাল প্রাচীর। ফিলিপাইন এটিকে ‘এসকোডা শোল’ নামে উল্লেখ করে। এলাকাটি দেশটির ২০০ নটিক্যাল মাইলের নিজস্ব অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে পড়েছে বলে জানা গেছে।
দক্ষিণ চীন সাগরের প্রায় ৯০ শতাংশ নিজেদের বলে দাবি করে চীন। তবে ব্রুনাই, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, তাইওয়ান ও ভিয়েতনামও নিজেদের উপকূলীয় প্রাপ্য অংশের দাবি করে আসছে। বিপুল অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্বের কারণে অঞ্চলটি বর্তমানে আঞ্চলিক কূটনীতি ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
এস এম/ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
FAQ
BRP Datu Magat Salamat-এর সঙ্গে সংঘর্ষ কবে হয়?
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ১৩ মিনিটের দিকে চীনা কোস্টগার্ডের CCG-21585-এর সঙ্গে জাহাজটির সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষে কেউ আহত হয়েছেন?
না। ফিলিপাইন কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ফিলিপাইনের জাহাজটি সেখানে কেন গিয়েছিল?
ফিলিপাইনের Bureau of Fisheries and Aquatic Resources-এর জাহাজটি স্থানীয় জেলেদের কাছে জ্বালানি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার অভিযানে ছিল।
ঘটনাস্থল কোথায়?
ফিলিপাইনের হিসাবে পালাওয়ান উপকূল থেকে প্রায় ৫৪ নটিক্যাল মাইল দূরে এবং Abad Santos Shoal-এর প্রায় ৬.৩৬ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পশ্চিমে ঘটনাটি ঘটে। চীন ঘটনাটিকে Sabina Shoal/Xianbin Jiao সংলগ্ন এলাকায় তাদের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
সংঘর্ষের জন্য কে দায়ী?
এ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য বিপরীত। ফিলিপাইনের অভিযোগ, চীনা জাহাজ ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা দিয়েছে। চীনের দাবি, ফিলিপাইনের জাহাজ সতর্কতা উপেক্ষা করে তাদের জাহাজের সামনে চলে এসেছিল।
২০১৬ সালের দক্ষিণ চীন সাগর রায়ে কী বলা হয়েছিল?
সালিশি ট্রাইব্যুনাল বলেছিল, UNCLOS-এ নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে ‘নাইন-ড্যাশ লাইন’-এর মধ্যে ঐতিহাসিক অধিকারের ভিত্তিতে চীনের সামুদ্রিক দাবির আইনগত ভিত্তি নেই। তবে ওই ট্রাইব্যুনাল ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্ব নির্ধারণ করেনি। চীন রায়টি প্রত্যাখ্যান করে।
