চিঠি লেখা আর জমা দেওয়ার এই দৃশ্য মনে পড়িয়ে দেয় প্রিয় কবি হেলাল হাফিজের প্রস্থান কবিতার পঙ্ক্তিমালা ‘এখন তুমি কোথায় আছো, কেমন আছো, পত্র দিয়ো।’
এক বিকেলে মেলায় কেনা খামখেয়ালি তালপাখাটা
খুব নিশীথে তোমার হাতে কেমন আছে, পত্র দিয়ো৷
ক্যালেন্ডারের কোন পাতাটা আমার মতো খুব ব্যথিত
ডাগর চোখে তাকিয়ে থাকে তোমার দিকে, পত্র দিয়ো
কোন কথাটা অষ্টপ্রহর কেবল বাজে মনের কানে
কোন স্মৃতিটা উসকানি দেয় ভাসতে বলে প্রেমের বানে
পত্র দিয়ো, পত্র দিয়ো৷’
অপরূপ এই আয়োজন যেন সময়কে থমকে দিয়েছিল কিছুক্ষণের জন্য। ব্যস্ত ক্যাম্পাসের কোলাহলের মধ্যে হঠাৎই তৈরি হয় এক নিবিড় নীরবতা কলমের খসখস শব্দ, ভাঁজ করা কাগজের মৃদু আওয়াজ, আর চোখেমুখে জমে থাকা এক অনাবিল আনন্দ। যাঁরা কখনো চিঠি লেখেননি, তাঁরাও আজ প্রথমবারের মতো অনুভব করলেন কালিকলমে মনের কথা বলার সেই পুরোনো সুখ।
উৎসবে অংশ নিতে আসা শিক্ষার্থী তামান্না লিপি বলেন, ‘চিঠি লেখার মতো হারিয়ে যেতে বসা একটি সুন্দর ঐতিহ্যকে ক্যাম্পাসে আবারও ফিরিয়ে আনার উদ্যোগটি সত্যিই প্রশংসনীয়। ব্যস্ত জীবনের মধ্যে হাতে লেখা চিঠির মাধ্যমে মনের কথা প্রকাশ করার সুযোগ আমাদের জন্য এক ভিন্নধর্মী ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।’