জটিল রোগ থ্যালাসেমিয়া ও ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে চলে গেলেন তরুণ কবি শ্বেতা শতাব্দী এষ। শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৩৩ বছর।
খবরটি নিশ্চিত করেছেন শ্বেতার বড় বোন মন্দিরা শতাব্দী এষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্দিরা লিখেছেন, “আমার মণি আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। আর আমাকে দিদি ডাকবে না।”
জামালপুরের মেয়ে শ্বেতার জন্ম ১৯৯২ সালে। জন্ম থেকেই বিটা থ্যালাসেমিয়া মেজর রোগে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। এই জটিল রোগ নিয়েও পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন শ্বেতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন শ্বেতা।
কিন্তু জীবন আরও কঠিন হয়ে ওঠে কয়েক বছর আগে, যখন তার শরীরে ধরা পড়ে লিভার ক্যানসার। ব্যয়বহুল চিকিৎসা সামলাতে পরিবারকে পড়তে হয় সংকটে। কয়েক দফা সহায়তার উদ্যোগে চলে চিকিৎসা।
রোগব্যাধির সঙ্গে লড়াই করেও কবিতায় নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন শ্বেতা শতাব্দী। তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো— অনুসূর্যের গান, রোদের পথে ফেরা, ফিরে যাচ্ছে ফুল, আলাহিয়ার আয়না এবং বিপরীত দুরবিনে।
সবশেষ ২০২৫ সালের একুশে বইমেলায় বৈভব থেকে প্রকাশিত হয় তার কাব্যগ্রন্থ ‘হাওয়া ও হেমন্ত’।
তরুণ এই কবির অকাল প্রয়াণে শোক প্রকাশ করছেন দেশের কবি-লেখকরা। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে শ্বেতার কবিতা উদ্ধৃত করে তাকে স্মরণ করছেন। সেই সাথে বলছেন, অসুস্থতার মধ্যেও অবিচল থেকে সৃজনশীলতায় নিজেকে উজাড় করে দেওয়া শ্বেতা শতাব্দীকে পাঠক মনে রাখবে তার কবিতার জন্য, তার অনমনীয় জীবনের জন্য।





