চবিতে শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন | চ্যানেল আই অনলাইন

চবিতে শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন | চ্যানেল আই অনলাইন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম।

ফোরামের দাবি, চলমান নিয়োগ বোর্ডগুলো নিরপেক্ষ নয় এবং গত বছরের প্রথম ছয় মাসে প্রায় ৩০০টির বেশি নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা, সাক্ষাৎকার ও নম্বর বণ্টনে পক্ষপাত দেখা গেছে।

ফোরাম নেতারা বলেন, বিশেষ ব্যক্তির সুবিধায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। তাই স্বাধীন তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

প্রভাষক পদে শিক্ষক নিয়োগের অনিয়মের অভিযোগ তুলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা বলছেন, নিজ বিভাগের যোগ্য শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়োগ দিয়েছে নিয়োগ বোর্ড।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীন নিয়োগ প্রক্রিয়া ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে শিক্ষা মান ও পরিবেশ হারানোর ঝুঁকি বাড়ে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে তিন ধাপের (লিখিত পরীক্ষা, ক্লাস প্রেজেন্টেশন ও ভাইভা) পদ্ধতি চালু হলেও বাস্তবে এতে স্বচ্ছতা বাড়ার বদলে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি আরও কৌশলীভাবে চলছে—এমন অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ।

সবচেয়ে বড় অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে লিখিত পরীক্ষায়। নিয়ম অনুযায়ী ৫০ নম্বরের পরীক্ষায় ৬০ শতাংশ পেলেই উত্তীর্ণ হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, বহু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রার্থী অংশ নিলেও কেবল নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট কিছু প্রার্থীই পাস করছেন।

ফারসি ভাষা ও সাহিত্য, নাট্যকলা, বাংলাদেশ স্টাডিজ, ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্সসহ একাধিক বিভাগে লিখিত পরীক্ষায় কারচুপির অভিযোগও রয়েছে। এসব বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পরীক্ষার্থী দাবি করেছেন, নিয়োগ বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ মূলত উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. কামাল উদ্দিনের হাতে এবং তার পছন্দের প্রার্থীকে এগিয়ে নিতেই লিখিত পরীক্ষার ফল প্রভাবিত করা হয়।

ক্রিমিনোলজি বিভাগে একটি পদে নির্দিষ্ট প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে গিয়ে নৈতিকতা লঙ্ঘনের অভিযোগ, এমনকি নিয়োগ বোর্ডের প্রধানের সঙ্গে ওই প্রার্থীর যৌথভাবে প্রবন্ধ প্রকাশের ঘটনাতেও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

পরীক্ষার্থীদের ভাষ্য, প্রতিবাদ করলে হুমকি ও হেনস্থার শিকার হতে হয় বলেই এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, দ্রুতগতিতে ও বন্ধের দিনে নিয়োগ বোর্ড বসানো নিয়ে আমরা ভিসিকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। তবে ভিসি কেবল মৌখিকভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ বলেছেন, লিখিত কোনো ব্যাখ্যা বা পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স, ফারসি বিভাগসহ একাধিক বিভাগের লিখিত পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে তিনি “উদ্বেগজনক ও দুঃখজনক” বলে উল্লেখ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স এক পরীক্ষার্থী চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগ দুর্নীতির মাধ্যমে পছন্দের প্রার্থীকে এগিয়ে দিতে লিখিত পরীক্ষার ফল কৌশলে সাজানো হয়। এতে পছন্দের প্রার্থীর সমমানের বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউকে সুপারিশে না রেখে, ইচ্ছাকৃতভাবে অপেক্ষাকৃত দুর্বল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রার্থীকে তার সঙ্গে রাখা হয়, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সে সহজেই এগিয়ে থাকে।

জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, বর্তমান নিয়োগ বোর্ডের গঠনই স্বচ্ছতার অন্তরায়। ডিন ও সিন্ডিকেট সদস্য ছাড়া কেবল উপ-উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার নিয়ে বোর্ড চললে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত হয় না।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ভিসি এ বিষয়ে ব্যবস্থা না নিয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছেন এবং বিভিন্ন অভিযোগ উঠলেও কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধেও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ থাকায় পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন অভিযোগগুলো সম্পর্কে কোনা  বক্তব্য দেয়নি। উপাচার্য, সহ-উপাচার্য, উপাচার্য (প্রশাসন) প্রতিবেদকের ফোনে সাড়া দেননি।

Scroll to Top