
চট্টগ্রাম, ৩০ আগস্ট – চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল দেশের অর্থনীতিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রোববার নগরীর পতেঙ্গা এলাকায় টার্মিনালটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। ডেনমার্কের প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস সরকারি বেসরকারি অংশীদারিত্বের আওতায় এই টার্মিনালটি নির্মাণ করছে।
৭৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের এই প্রকল্পটি হবে সম্পূর্ণ বিদেশি বিনিয়োগে নির্মিত দেশের প্রথম টার্মিনাল। প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তী ৩০ বছর এই টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে। মন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এই প্রকল্প একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। লজিস্টিকস ও ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসারে এই টার্মিনালের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি উল্লেখ করেন যে, বেসরকারি বিনিয়োগ ছাড়া অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব নয় এবং চট্টগ্রামের সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে এর রূপান্তরকে এই উদ্যোগ আরও ত্বরান্বিত করবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর আধুনিকায়নের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।
আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ আগ্রহ প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর বিশ্বের আস্থা বাড়ছে। লালদিয়া টার্মিনাল আন্তর্জাতিক শিপিং কমিউনিটিতে একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে যার সুফল দেশ দীর্ঘমেয়াদে ভোগ করবে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এপিএম টার্মিনালস লালদিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রমেশ ডেভিড।
জানা গেছে, ২০৩০ সাল নাগাদ টার্মিনালের নির্মাণকাজ শেষ হলে বছরে প্রায় ৯ লাখ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে। এখানে সাড়ে ১০ মিটার ড্রাফট সম্পন্ন ৬ হাজার টিইইউএস ধারণক্ষমতার বড় জাহাজ সার্বক্ষণিক ভিড়তে পারবে। এই প্রকল্প থেকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এককালীন ২৫ মিলিয়ন ডলার ছাড়াও বার্ষিক ফি ও কনটেইনার প্রতি নির্দিষ্ট রাজস্ব পাবে।
এস এম/ ৩০ আগস্ট ২০২৬


