আট বছরের এক শিশুর যখন শ্রেণিকক্ষে বসে পাঠ নেওয়ার কথা, তখন সে কক্সবাজারের চকরিয়ায় তামাকপাতার আঁটি বাঁধছে। সম্প্রতি প্রকাশিত প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি কেবল একজন শিশুর বাস্তবতা নয়; তামাক কাটার মৌসুমে ওই এলাকার অসংখ্য শিশুই স্কুল ছেড়ে পরিবারকে সাহায্য করতে তামাকখেত বা চুল্লির কাজে যুক্ত হয়। দারিদ্র্যের জাঁতাকলে এদের শিক্ষাজীবন যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছে তাদের ভবিষ্যৎ জনস্বাস্থ্য।
বিস্ময়কর বিষয় হলো, চকরিয়া উপজেলার অন্তত ১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশপাশে অবাধে চলছে তামাক চাষ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ। অনেক বিদ্যালয়ের দেয়াল ঘেঁষেই তামাকখেত। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার হিসাবমতেই, কেবল এসব বিদ্যালয় ঘিরে অন্তত ১১০টি তামাকচুল্লি গড়ে উঠেছে। এসব চুল্লি থেকে নির্গত উৎকট গন্ধ ও বিষাক্ত ধোঁয়া বাতাসে মিশে সরাসরি শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করছে। পড়াশোনা করতে এসে কোমলমতি শিশুরা প্রতিদিনই শ্বাস নিচ্ছে অদৃশ্য এই বিষাক্ত বাতাসে। যেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়ার কথা নিরাপদ আশ্রয়ের প্রতীক, সেখানে এই বেহাল চিত্র আমাদের চরমভাবে উদ্বিগ্ন করে তোলে।



