অস্ত্রোপচার, ডায়াবেটিস, সংক্রমণসহ বিভিন্ন কারণে পাকস্থলী স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ধীরে খালি হতে পারে। এই অবস্থাকে বলা হয় গ্যাস্ট্রোপ্যারেসিস। খাওয়ার পর পেট ফাঁপা, অস্বস্তি, অল্প খাবারেই পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি—এসব লক্ষণ ইঙ্গিত দিতে পারে যে আপনার পাকস্থলী খাবার, বিশেষ করে শক্ত খাবার, দেরিতে হজম করছে। এর ফলে শরীরে পর্যাপ্ত ক্যালোরি পৌঁছাতে সমস্যা হতে পারে এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণেও জটিলতা দেখা দিতে পারে।

গ্যাস্ট্রোপ্যারেসিসের কারণ: গ্যাস্ট্রোপ্যারেসিসের পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে, যেমন—
* পেট বা খাদ্যনালির অস্ত্রোপচার
* পরিপাকতন্ত্রের রোগ
* ভাইরাসজনিত সংক্রমণ
* ডায়াবেটিস
কখনও কোনো নির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। তখন একে বলা হয় Idiopathic Gastroparesis
তবে সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো ডায়াবেটিস।
কীভাবে এই সমস্যা হয়
আমাদের শরীরে ভেগাস নার্ভ নামের একটি স্নায়ু পাকস্থলী থেকে খাবার অন্ত্রে পাঠানোর কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। এই স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে পাকস্থলী ও অন্ত্রের পেশি ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। ফলে খাবার পাকস্থলীতে দীর্ঘ সময় আটকে থাকে।
সম্ভাব্য উপসর্গ: গ্যাস্ট্রোপ্যারেসিসে যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে—
* পেট ফাঁপা
* পেটে অস্বস্তি বা ব্যথা
* অল্প খাবারেই পেট ভরে যাওয়া
* বমিভাব
* বমি
* হজমে ধীরগতি
* খাবারের পর রক্তে শর্করার ওঠানামা
উপসর্গ কমাতে ও হজম ভালো রাখতে করণীয়
১. অল্প অল্প করে বারবার খান: দিনে ৪–৬ বার ছোট ছোট মিল খান।
২. কম চর্বি ও কম আঁশযুক্ত খাবার বেছে নিন: চর্বিযুক্ত খাবার পাকস্থলী খালি হতে দেরি করায়। তবে তরল খাবারের চর্বি সাধারণত সহজে সহ্য হয় এবং ক্যালোরির যোগান দেয়।
৩. খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে খান: ভালোভাবে চিবিয়ে খেলে হজম সহজ হয়।
৪. খাওয়ার সময় ও পরে সোজা হয়ে বসুন: খাওয়ার পর অন্তত ৩–৪ ঘণ্টা শুয়ে থাকবেন না। এতে এসিড রিফ্লাক্স কমে।
৫. খাবারের পর হাঁটুন: হালকা হাঁটা পাকস্থলী দ্রুত খালি হতে সাহায্য করে।
৬. যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন
অ্যালকোহল
ধূমপান
অতিরিক্ত ক্যাফেইন
ঝাল ও টক খাবার
ভাজাপোড়া
কোমল পানীয়
৭. ফাইবার সাপ্লিমেন্ট এড়িয়ে চলুন: বিশেষ করে কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য ব্যবহৃত ফাইবার বাল্কিং এজেন্ট সমস্যা বাড়াতে পারে।
৮. খাবার গ্রহণের সময় অতিরিক্ত পানি পান কমান: অতিরিক্ত তরল পাকস্থলীতে জায়গা দখল করে ফেলে। তাই আগে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খান, পরে তরল পান করুন।
৯. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন: রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকলে পাকস্থলী ভালোভাবে খালি হতে সাহায্য করে এবং হঠাৎ শর্করা ওঠানামা কমে।
কখন চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলবেন? যদি দীর্ঘদিন ধরে—
খাওয়ার পর পেট ভরা লাগে
বমিভাব থাকে
খাবার হজমে সমস্যা হয়
ওজন কমে যায়
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে না থাকে
তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রয়োজন হলে পাকস্থলী দ্রুত খালি করতে ওষুধও দেওয়া হতে পারে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
সূত্র: রসওয়েল পার্ক




