রাজস্থানের জয়পুরে এক বিদেশি শিল্পীর ফটোশুটে গোলাপি রঙে রাঙানো একটি হাতিকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওই ছবি ও ভিডিওকে কেন্দ্র করে প্রাণী কল্যাণ এবং বিনোদনের উদ্দেশ্যে প্রাণী ব্যবহারের নৈতিকতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ছবিগুলো মূলত ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ভ্রমণরত ফটোগ্রাফার জুলিয়া বুরুলেভা প্রকাশ করলেও, সেগুলো সম্প্রতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনলাইনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। কেউ কেউ এর নান্দনিকতা ও সৃজনশীলতার প্রশংসা করলেও বড় অংশের ব্যবহারকারী প্রাণীটির প্রতি আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ফটোশুটে মডেল ইয়াশস্বীও অংশ নেন এবং এটি প্রায় এক বছর আগে জয়পুরে একটি পরিত্যক্ত গণেশ মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয়। ভিডিওতে দেখা হাতিটির নাম ছিল ‘চঞ্চল’, যিনি হাথি গাঁও এলাকার একটি হাতি।
হাথি গাঁও কমিটির সভাপতি বল্লু খান জানিয়েছেন, হাতিটিকে হোলিতে ব্যবহৃত সাধারণ গুলাল পাউডার দিয়ে রাঙানো হয়েছিল এবং প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যে তা ধুয়ে ফেলা হয়।
তিনি আরও নিশ্চিত করেন, প্রায় ৭০ বছর বয়সী হাতি ‘চঞ্চল’ গত মাসে মারা গেছে। তবে তার মৃত্যু ফটোশুট বা বিতর্কের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এমন কোনো প্রমাণ নেই বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তাদের ধারণা, বয়সজনিত কারণে স্বাভাবিকভাবেই তার মৃত্যু হয়েছে।
রুশ ফটোগ্রাফার জুলিয়া বুরুলেভা জানান, তিনি ২০২৫ সালের নভেম্বরে জয়পুরে প্রায় ছয় সপ্তাহ অবস্থান করেন এবং শহরের গোলাপি রঙ ও রাজস্থানের সংস্কৃতি তার কাজকে অনুপ্রাণিত করেছে।
তিনি আরও দাবি করেন, ব্যবহৃত রং ছিল স্থানীয়ভাবে তৈরি প্রাকৃতিক গুলাল এবং তা খুব অল্প সময়ের জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল।
তবে এই ব্যাখ্যা সত্ত্বেও ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর প্রাণী ব্যবহারের নৈতিকতা নিয়ে সমালোচনা আরও তীব্র হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এ ধরনের ফটোশুটে যথাযথ অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কিনা এবং হাতিটির সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছিল কি না।
বিতর্কের পর রাজস্থান বন বিভাগ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে যে কোনো বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না। যদি অবহেলা বা আইন ভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।




