
কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ার সারে শহরে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার বিরোধের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী বাড়িওয়ালাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটিকে গরুর মাংস খাওয়া ও ধর্মীয় বিরোধের সঙ্গে যুক্ত করে নানা দাবি ছড়ালেও পুলিশ বলছে, এর সঙ্গে ধর্ম বা গরুর মাংসের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি মূলত বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার পুরোনো বিরোধ।
ঘটনাটি সারে শহরের ‘তিওয়ানা ফার্মস’ নামের একটি ভাড়া বাড়িতে। ভাড়াটিয়া ও তাঁর কয়েকজন বন্ধু বাড়ির বাইরে বারবিকিউ করছিলেন। এ সময় বাড়িওয়ালা রাজ তিওয়ানা সেখানে এসে বারবিকিউ নিয়ে আপত্তি জানান।
রাজ তিওয়ানার অভিযোগ ছিল, বারবিকিউয়ের ধোঁয়া ও তাপে বাড়ির দেয়ালে দাগ পড়ছে। পাশাপাশি এতে আগুন লাগার ঝুঁকিও রয়েছে। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।
পরে ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দাবি করা হয়, ভাড়াটিয়ারা গরুর মাংসের স্টেক রান্না করছিলেন। এ কারণে বাড়িওয়ালা ক্ষুব্ধ হয়ে খাবার ফেলে দেন বলেও বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়। কেউ কেউ ঘটনাটিকে ধর্মীয় বিরোধ হিসেবে তুলে ধরে বাড়িওয়ালাকে হিন্দু ধর্মাবলম্বী বলেও উল্লেখ করেন।
তবে এসব দাবির সঙ্গে পুলিশের বক্তব্যের মিল নেই। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রাজ তিওয়ানা ভারতীয় বংশোদ্ভূত একজন শিখ নারী।
ভাড়াটিয়ার শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, বারবিকিউ নিয়ে কথা-কাটাকাটির পর বিরোধ আরও বাড়ে। ভাড়াটিয়ার অভিযোগ, রাজ তিওয়ানা তাঁর অনুমতি ছাড়া ঘরে প্রবেশ করেন। পরে ঘরের তালা পরিবর্তন এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেন। একপর্যায়ে বাড়ির সামনের দরজাও খুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া ভাড়াটিয়ার দিকে পাথর ছোড়া এবং তাঁর গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের তদন্ত বা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি।
সারে পুলিশ সার্ভিস জানিয়েছে, বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে বিরোধটি আগে থেকেই চলছিল। এ নিয়ে এর আগেও কয়েকবার পুলিশকে ঘটনাস্থলে যেতে হয়েছে।
সর্বশেষ ঘটনার পর অনধিকার প্রবেশ ও হেনস্থার অভিযোগে রাজ তিওয়ানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই গ্রেপ্তারের সঙ্গে গরুর মাংস, অন্য কোনো মাংস, ধর্ম বা কোনো আদর্শের সম্পর্ক নেই। তাদের মতে, এটি মূলত বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার মধ্যকার আইনি ও সম্পত্তিগত বিরোধ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে নানা দাবি ছড়িয়ে পড়লেও, পুলিশ বলছে ঘটনার প্রকৃত কারণ হিসেবে ধর্ম বা খাবারের বিষয়কে দেখার কোনো ভিত্তি নেই।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…