শিল্পকর্ম মানুষের প্রাচীনতম দৃশ্যমান প্রকাশভাষাগুলোর একটি। ভাষার প্রচলিত সীমা অতিক্রম করে শিল্পকর্ম তার রেখা, রং, আকার, বিন্যাস ও দৃশ্যমানতার মধ্য দিয়ে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। তবে এই যোগাযোগকে সম্পূর্ণ অর্থে সর্বজনবোধ্য বলা যায় না; কারণ শিল্প-উপকরণ, প্রতীক, সংকেত ও সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গের পাঠ অনেক সময় নির্ভর করে দর্শকের নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও সাংস্কৃতিক জ্ঞানের ওপর। বিশেষত ধারণানির্ভর সমকালীন শিল্পে এই পাঠ আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। একটি শিল্পকর্মে দৃশ্যমান উপাদানের সঙ্গে যুক্ত হয় প্রতীক, ইতিহাস, দর্শন, সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং শিল্পীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। ফলে শিল্পকর্মের অন্তর্নিহিত ধারণা বা প্রেক্ষাপট অনুধাবনের জন্য অনেক সময় ধারণাপত্র (কনসেপ্ট নোট) সহায়ক হয়ে ওঠে। কিন্তু এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দেখা দেয়—কনসেপ্টের ব্যাখ্যা কি কখনো শিল্পের নিজস্ব দৃশ্যভাষাকে আড়াল করে ফেলে?
একটি শিল্পকর্মের সঙ্গে দর্শকের প্রথম সম্পর্ক তো মূলত চোখের। রং, রেখা, আকার, বিন্যাস ও সামগ্রিক দৃশ্যগত অভিঘাত থেকেই তৈরি হয় তার প্রাথমিক নান্দনিক অভিজ্ঞতা। দীর্ঘ তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা যদি সেই প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার পরিবর্তে শিল্পকর্মের অর্থ উদ্ধারের প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে, তবে দর্শক চিত্রকে দেখার চেয়ে তার ব্যাখ্যা পাঠে বেশি মনোযোগী হয়ে পড়তে পারেন। এর ফলে শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ত আস্বাদনের সঙ্গে দর্শকের একধরনের দূরত্ব তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।