টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে স্তব্ধ করে দীর্ঘ ৭২ বছর পর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পা রেখেছে সুইজারল্যান্ড। আর সুইসদের এই রূপকথার নায়কের নাম গ্রেগর কোবেল। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের এই গোলরক্ষক হুয়ান কামিলো হার্নান্দেজের পেনাল্টি শট দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দিয়ে দলকে এনে দিয়েছেন শেষ আটের টিকিট। আগামী রোববার কানসাস সিটিতে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আর সেখানে লিওনেল মেসিদের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হতে পারেন এই কোবেল।

চলতি বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া কিংবা মিশরের মোস্তফা শোবেইর যেভাবে আর্জেন্টিনাকে ভুগিয়েছিলেন, কোবেলও যেন সেই পথেই হাঁটছেন। ২০২৪ সালের আগস্টে কিংবদন্তি ইয়ান সোমার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার পর সুইজারল্যান্ডের গোলপোস্টের অতন্দ্র প্রহরী বনে যান কোবেল। চলতি বিশ্বকাপে তাঁর ফর্ম এককথায় অনবদ্য। গ্রুপ পর্বে কাতার, বসনিয়া ও কানাডার বিপক্ষে গোল হজম করলেও, নকআউটের আসল লড়াইয়ে আলজেরিয়া ও কলম্বিয়ার বিপক্ষে পোস্ট অক্ষত রেখেছেন (ক্লিন শিট)। আসরে এখন পর্যন্ত মাত্র ৩টি গোল খাওয়া কোবেল সেভ করেছেন ১৬টি।
কোয়ার্টার ফাইনালের মহারণের আগে কোবেলের আত্মবিশ্বাস ও প্রস্তুতিও চোখে পড়ার মতো। ফাইনাল পর্যন্ত যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে টুর্নামেন্টে মোট ৮ জোড়া গ্লাভস সঙ্গে এনেছেন তিনি। প্রতি ম্যাচে মাঠে নামেন সম্পূর্ণ নতুন এক জোড়া গ্লাভস পরে।
সুইস সংবাদমাধ্যম ‘ব্লিক’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই গোলরক্ষক নিজের সাফল্যের এক অদ্ভুত কৌশলের কথা জানিয়েছেন। ম্যাচের আগে তিনি গ্লাভসে ভ্যাসলিন মেখে নেন। কেন এমনটা করেন, তার ব্যাখ্যায় কোবেল বলেন, “বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে একদম নতুন বল ব্যবহার করা হয়। এই বলগুলোর ওপর একটা প্লাস্টিকের সূক্ষ্ম প্রলেপ থাকে, যা একটু পানি পেলেই সাবানের মতো পিচ্ছিল হয়ে যায়। বল যেন হাত থেকে ফস্কে না যায় এবং গ্রিপ যেন নিখুঁত হয়, সে জন্যই ভ্যাসলিন ব্যবহার করি।” আধুনিক ফুটবলে অন্য অনেক গোলরক্ষকও অবশ্য এই কৌশল বেছে নেন।
তবে টাইব্রেকারের ক্ষেত্রে কোবেল একটু ব্যতিক্রম। বর্তমান সময়ে অনেক গোলরক্ষকই জলের বোতলে বা চিরকুটে প্রতিপক্ষ পেনাল্টি টেকারদের শট মারার অভ্যাসের তালিকা (চিট শিট) লিখে রাখেন। কিন্তু কোবেল হাঁটেন উল্টো পথে। চিরকুটের ধার ধারেন না তিনি। তাঁর ভাষ্য, “আমি কখনোই চিরকুট দেখে পেনাল্টি ঠেকাই না। প্রতিপক্ষের পেনাল্টি নেওয়ার পরিসংখ্যানের পাশাপাশি আমি আমার নিজের সহজাত প্রবৃত্তি বা ইনটুইশনের ওপর সবচেয়ে বেশি ভরসা করি।”
রোববারের ম্যাচে মেসি-আলভারেজদের গোল উৎসব করতে হলে কোবেলের তৈরি করা এই ‘দেয়াল’ ভাঙতে হবে। আর নকআউটের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচ যদি কোনোভাবে টাইব্রেকারে গড়ায়, তবে আর্জেন্টাইন পেনাল্টি টেকারদের জন্য যে কোবেল এক বিশাল মনস্তাত্ত্বিক বাধা হয়ে দাঁড়াবেন, তা বলাই বাহুল্য।
পোস্ট কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনার সামনে আরেক ‘ভোজিনিয়া’ প্রথম হাজির জুমবাংলা.



