
বুয়েনস আইরেস, ৮ জুলাই – বিশ্বকাপ ফুটবলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে নাটকীয় জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে এক সময় ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকলেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ৩-২ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় লিওনেল মেসির দল।
শিরোপা ধরে রাখার এই মিশনে সেমিফাইনালের টিকিট পেতে এবার তাদের মোকাবিলা করতে হবে সুইজারল্যান্ডকে। অন্য দিকে দিনের অপর ম্যাচে কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে সুইজারল্যান্ড। নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টি শ্যুটআউটে।
এর মাধ্যমে দীর্ঘ ৭২ বছর পর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লেখালো সুইসরা। তবে কোয়ার্টার ফাইনালের এই লড়াইয়ে ইতিহাস এবং পরিসংখ্যান দুইই কথা বলছে আলবিসেলেস্তেদের পক্ষে। দুই দলের পূর্ববর্তী সাতটি আন্তর্জাতিক লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে দেখা যায় আর্জেন্টিনা জিতেছে পাঁচবার এবং বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।
অর্থাৎ এখন পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে হারের কোনো তিক্ত অভিজ্ঞতা নেই আর্জেন্টিনার। দুই দলের প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে। সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে জয়লাভ করে। এরপর ১৯৯০ এবং ২০০৭ সালে দুটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ ১-১ সমতায় শেষ হয়।
সর্বশেষ ২০১৪ সালের বিশ্বকাপের নকআউট পর্বেও মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। সেই ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ের গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। প্রীতি ম্যাচগুলোতেও আধিপত্য বজায় রেখেছে আকাশি-সাদারা। ১৯৮০ সালে ৫-০, ১৯৮৪ সালে ২-০ এবং ২০১২ সালে ৩-১ গোলের সহজ জয় পায় ল্যাটিন আমেরিকার এই পরাশক্তি।
সব মিলিয়ে সাতটি ম্যাচে আর্জেন্টিনা মোট ১৫টি গোল করেছে যেখানে সুইজারল্যান্ড করতে পেরেছে মাত্র ৪টি। পরিসংখ্যান এগিয়ে রাখলেও এবারের আসরে আর্জেন্টিনার নকআউট পর্বের পথটি খুব একটা মসৃণ ছিল না। প্রতিটি ম্যাচেই পিছিয়ে পড়ার পর তাদের ঘুরে দাঁড়াতে হয়েছে। ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে উজ্জীবিত সুইজারল্যান্ডকে বিন্দুমাত্র হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই মেসির নেতৃত্বাধীন দলটির।
এস এম/ ৮ জুলাই ২০২৬






