এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
২০২৬ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে এখনও কাটেনি ধোঁয়াশা। কয়েকদফা বৈঠক হয়েছে আইসিসি ও বিসিবির, তবে সমাধান হয়নি। এরই মধ্যে রোববার ক্রিকইনফো এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল ২১ জানুয়ারির মধ্যে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিতে বিসিবিকে সময়সীমা বেধে দিয়েছে আইসিসি। একদিন পর এমন দাবি অস্বীকার করেছে বিসিবি।
সোমবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিসিবি পরিচালক ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, আইসিসি নির্দিষ্ট করে বিসিবিকে কোনো সময়সীমার কথা জানায়নি।
তিনি বলেন, ‘গত শনিবার আইসিসি’র একজন প্রতিনিধি আসেন, তার সাথে আমাদের ক্রিকেট বোর্ডের একটি প্রতিনিধি দলের বৈঠক হয়। সেখানে আমাদের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য আমাদের যে ভেন্যুর ব্যাপারে তথ্যগুলো বলে দেই, আমরা এ ভেন্যুতে খেলতে অপারগ। এবং বিকল্প ভেন্যুর জন্য অনুরোধ করি।’
‘তাদের প্রতিনিধির সাথে আমাদের বিস্তারিত আলোচনা হয়। ওনারা তখন আমাদেরকে বলেন যে ঠিক আছে এই ব্যাপারগুলো তারা যে আইসিসিকে অবহিত করবেন এবং পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত আমাদেরকে জানিয়ে দেবেন। এ ব্যাপারে ওনারা কোন নির্দিষ্ট তারিখ বা কবে নাগাদ জানাবেন কিছুই বলেননি, শুধুমাত্র বলেছেন যে আমাদেরকে পরবর্তী তারিখটা কবে হবে জানিয়ে দেবেন।’
এর আগে ক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ‘গত শনিবার ঢাকায় আইসিসি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা বৈঠকে বিসিবিকে এই সময়সীমা বেধে দেয়া হয়। বৈঠকে বিসিবি বাংলাদেশ দলের ভারতে ভ্রমণ এবং খেলার নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেছে। ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না চাওয়ার বিষয়টিতে অটল ছিল, বিকল্প ভেন্যু হিসেবে সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কার খেলতে চেয়েছিল। তবে আইসিসি জানিয়েছে, সময়সূচী পরিবর্তন করবে না তারা, যেখানে বাংলাদেশ আছে ‘সি’ গ্রুপে।
প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলমান ইস্যুটি এখনও আলোর মুখ দেখেনি। গত ৪ জানুয়ারি বিসিবি প্রথমবার উদ্বেগের কথা জানায় আইসিসিকে। অথচ, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে গড়াবে বিশ্বকাপ। আসরের প্রথম দিনেই বাংলাদেশর ম্যাচ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, কলকাতায়। একই ভেন্যুতে পরবর্তী দুটি ম্যাচ ইতালি ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। এবং শেষ ম্যাচে মুম্বাইতে নেপালের বিপক্ষে খেলার কথা রয়েছে।
শনিবারের বিসিবির আরও একটি প্রস্তাব নাকোচ করে দিয়েছে আইসিসি। বাংলাদেশকে গ্রুপ বি-তে স্থানান্তরিত করার এবং আয়ারল্যান্ডের সাথে স্থান পরিবর্তন করার বিষয়ে অনুরোধ করেছিল বিসিবি। তবে আইসিসি তাতে সম্মত হয়নি। আইসিসি বিসিবিকে আশ্বস্ত করেছে যে বাংলাদেশের জন্য কোনও নিরাপত্তা হুমকি নেই।
একটি স্বাধীন নিরাপত্তা সংস্থার অধীনে অংশগ্রহণকারী ২০টি দলের কাছে আইসিসি নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরামর্শ জানিয়েছে। যেখানে ভারতে সামগ্রিক হুমকির মাত্রা মাঝারি থেকে উচ্চতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে কোনও দলের জন্য সরাসরি, নির্দিষ্ট কোনও হুমকি নেই বলে উল্লেখ করেছে।
আলোচনায় অংশ নেয়া সুত্রের বরাতে ক্রিকইনফো বলেছে, ‘আইসিসি বিসিবির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করবে। বাংলাদেশ ভারত ভ্রমণে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে আইসিসি সম্ভাব্য একটি নতুন দলকে যুক্ত করবে, যা বর্তমান র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে স্কটল্যান্ড হবে।
বিসিসিআইয়ের নির্দেশে মোস্তাফিজুর রহমানকে আসন্ন আইপিএলের দল থেকে ছেড়ে দেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। এরপর বাংলাদেশ সরকার দেশে আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে এবং বিসিবি আইসিসিকে একটি চিঠি পাঠিয়ে ভারতে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানায়, যে অবস্থানে এখনও অটল বাংলাদেশ।





