সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা সোমবার (৩১ আগস্ট) কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে জড়ো হচ্ছেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঐতিহাসিকভাবে অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দিয়ে আসা এসসিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন ও রাশিয়ার জন্য বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বের ধারণা তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের বিরুদ্ধে নিজেদের ঐক্যও এই জোটের বিভিন্ন সম্মেলনে তুলে ধরছেন পুতিন ও শি।
এসসিওর প্রতিষ্ঠাকালীন ঘোষণায় বলা হয়েছে, সংগঠনটি ‘অন্য কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত জোট নয়’। যদিও গত বছরের সম্মেলনে ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য পশ্চিমা দেশগুলোকে উসকানির জন্য দায়ী করেছিলেন পুতিন। একই সম্মেলনে শি ‘ভয় দেখানোর কর্মকাণ্ডের’ নিন্দা করেছিলেন, যা যুক্তরাষ্ট্র-চীন উত্তেজনার প্রতি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়।
এবারের সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানেরও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। তুরস্ক এসসিওর সদস্য না হলেও সংলাপ অংশীদার হিসেবে জোটটির সঙ্গে যুক্ত।
সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করতে পারেন পেজেশকিয়ান। এর আগে জুলাইয়ে এসসিওর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাউন্সিলের বৈঠকের সময় দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করেছিলেন।
ইরান ২০২৩ সালে এসসিওর পূর্ণ সদস্য হয়। দেশটির রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক এবং চীনের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা রয়েছে।
এসসিওতে বর্তমানে ১০টি পূর্ণ সদস্য দেশ রয়েছে। এর বাইরে ১৫টি দেশ সংলাপ অংশীদার হিসেবে যুক্ত আছে। এসব দেশের মধ্যে তুরস্ক, সৌদি আরব ও কাতার রয়েছে। পূর্ণ সদস্য ভারত ও পাকিস্তানের নেতারাও সম্মেলনে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এসসিওর দাবি, জোটটি বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ জনসংখ্যা এবং বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ২৫ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে। এ বছর সংগঠনটির প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে।
এদিকে এসসিও সম্মেলনের আগে চীনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতিও আলোচনায় এসেছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, জি-২০ সদস্য দেশগুলোকে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কের শর্ত নতুন করে পর্যালোচনা করতে উৎসাহিত করবেন তিনি।
চীনের ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক বাণিজ্য উদ্বৃত্তকে ‘টেকসই নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন বেসেন্ট। রোববার যুক্তরাষ্ট্রে জি-২০ অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরদের বৈঠকের আগে রয়টার্সকে তিনি বলেন, বিশ্ব এমন একটি চীনকে মেনে নিতে পারে না, যার বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার।
বেসেন্টের ভাষ্য, চীনের অর্থনীতি বেশ দুর্বল এবং দেশটি এই সংকট থেকে বের হতে রপ্তানির ওপর নির্ভর করছে। তাই চীনকে অর্থনীতিতে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে হবে।
জি-২০ বৈঠকের ফাঁকে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক পিপলস ব্যাংক অব চায়নার গভর্নর প্যান গংশেংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন বেসেন্ট। তবে ওই বৈঠকের বিস্তারিত তিনি জানাননি।