এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
কাঠমান্ডুস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গণে ‘বাংলাদেশ ফিশ ফেস্টিভাল ২০২৫’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) দুপুর দু’টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে এ উৎসবের শুরু হয়।
উৎসব প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের নানা জাতের মাছের অনন্য উপস্থাপন ছিল বিশেষ আকর্ষণ। নেপালের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক খাদ্যের চাহিদার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের মিঠা পানির ও সামুদ্রিক মাছের বাজার সম্ভাবনার অন্বেষণও ছিল এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। এ উৎসব নেপালি আমদানিকারক ও হসপিটালিটি খাত এবং বাংলাদেশের মৎস্য রপ্তানিকারকদের মধ্যে ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রেও অনুঘটকের ভূমিকা পালন করতে পারে।
অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক রন্ধনশৈলীর প্রয়োগে প্রস্তুতকৃত বাংলাদেশের মিঠাপানি ও সামুদ্রিক সুস্বাদু খাবারের বাছাই করা পদ, আগত অতিথিদের জন্য পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল বাংলাদেশি শেফদের প্রস্তুতকৃত ‘‘স্মোকড ইলিশ (কাঁটা ছাড়া)’’ এবং ‘‘সরষে ইলিশ।’’
ফিশ ফেস্টিভালের গেস্ট অব অনার ছিলেন নেপালের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব কৃষ্ণ প্রসাদ ধাকাল।
কৃষ্ণ প্রসাদ ধাকাল এ উদ্যোগকে একটি প্রশংসনীয় ও উদ্ভাবনী আয়োজন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের অনুষ্ঠান দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধনকে আরও শক্তিশালী করবে এবং অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
স্বাগত বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ শফিকুর রহমান বলেন, এ উৎসব কেবল সাংস্কৃতিক উদযাপন নয় বরং আঞ্চলিক সহযোগিতা গভীরতর করা এবং ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণের সুযোগও বটে।
তিনি হিমালয় অঞ্চলে বাংলাদেশি মৎস্যসম্পদের এই প্রদর্শনী আয়োজন করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ‘‘মাছে ভাতে বাঙালি’’ ও নেপালি ডাল-ভাতকে একত্রে উপস্থাপন করে ‘‘মাছ-ডাল-ভাত’’ স্লোগান দ্বারা নেপাল-বাংলাদেশ বন্ধুত্বকে চিত্রায়িত করেন।
অতিথিরা আরও উপভোগ করেন মজাদার রুই ও কাতলা কারি, গ্রিলড লবস্টার এবং গ্রিলড রেড স্ন্যাপার। লাইভ কাউন্টারগুলোর মধ্যে ফ্রাইড সিলভার পমফ্রেট (রুপচাঁদা) এবং শ্রিম্প (চিংড়ি) টেম্পুরা বিশেষ আকর্ষন তৈরি করে।
পরিবেশনায় আরও ছিল আইড় মাছ এবং বোয়াল মাছের কারি। সম্পূর্ণ গ্রিলড কোরাল এবং গলদা চিংড়ির কারিও পরিবেশনার বৈচিত্র্য বাড়িয়ে তোলে, যা বাংলাদেশের সমৃদ্ধ মৎস্য ঐতিহ্য ও রন্ধনশৈলীকে প্রতিফলিত করে।
এই আয়োজনের সূচনা হিসেবে দূতাবাস গত ২৪ নভেম্বর নেপালস্থ ব্যবসায়ীদের সৌজন্যে বিভিন্ন মিঠাপানি ও সামুদ্রিক মাছের প্রদর্শনীও আয়োজন করে। এতে নেপালের হসপিটালিটি খাতের শীর্ষ স্থানীয় বেশ কয়েকজন মাছ আমদানিকারক এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিগণ অংশ নেন।
ফিস ফেস্টিভাল উপলক্ষে দূতাবাস চত্বরে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের রঙিন পোস্টার প্রদর্শিত হয়, যা বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে ফুটিয়ে তোলে। প্রদর্শনীতে জুলাই-আগস্ট মাসের বীরোচিত গণ-অভ্যুত্থানের পোস্টারও স্থান পায়, যা উদার গণতন্ত্র, মানবাধিকার, ভ্রাতৃত্ব ও ন্যায়বিচারের আলোকে বাংলাদেশ ২.০-এর অগ্রযাত্রাকে তুলে ধরে।
প্রদর্শনীতে কাঠমান্ডুস্থ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত/মিশনপ্রধান ও কূটনীতিকগণ, নেপাল সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাবৃন্দ, ব্যবসায়ী নেতা, থিংক ট্যাংক এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ, বিলাসবহুল হোটেলের ব্যবস্থাপক ও নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ, গণমাধ্যমের সদস্যসহ বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তি অংশগ্রহণ করেন।
এই প্রথমবারের মতো কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাস এ ধরনের আয়োজন করলো, যা বাংলাদেশের নানাবিধ মৎস্যসম্পদকে বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের সামনে উপস্থাপন করেছে। উৎসবে ১৫০ জনেরও বেশি অতিথি অংশগ্রহণ করেন এবং এটি নেপালের অনলাইন, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।



