
ঢাকা, ৪ মে – বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে দেশ ছেড়েছিলেন মেধাবী সন্তান। লক্ষ্য ছিল উচ্চশিক্ষা শেষে দেশের মুখ উজ্জ্বল করা। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ ফিরেছে কফিনবন্দি নিথর দেহ হয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ আজ সকালে দেশে এসে পৌঁছেছে। বিমানবন্দরে ছেলের নিথর দেহের সামনে দাঁড়িয়ে বাবা জহুরুল হকের আহাজারিতে উপস্থিত সবার চোখ ভিজে ওঠে।
সোমবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে লিমনের মরদেহবাহী বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সরকারের পক্ষে মরদেহ গ্রহণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। মরদেহ হস্তান্তরের সময় লিমনের বাবা জহুরুল হক কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমার ছেলে দুটাকে তিলে তিলে বড় করেছি। কোনোদিন আঘাত করিনি, শারীরিক শাস্তি দেইনি। যা শাসন করার মুখেই করেছি। আমার ছেলেটা যে এভাবে মারা যাবে, তা কখনো কল্পনাও করিনি। সে যে কী কষ্টের মধ্য দিয়ে গেছে, তা কেবল ওপরওয়ালাই জানেন।
হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক নেপথ্য
ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় পিএইচডি গবেষণারত লিমন গত ১৬ এপ্রিল নিখোঁজ হন। তার সাথেই নিখোঁজ হয়েছিলেন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নামে আরও এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। পরে জানা যায়, লিমনের মার্কিন রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহ এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল কারিগর। আদালতের তথ্যমতে, লিমনের শরীরে অসংখ্য ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অন্যদিকে বৃষ্টির মরদেহ খণ্ডিত অবস্থায় প্লাস্টিকে মোড়ানো অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। ঘাতক হিশামকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করে ‘ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডার’ চার্জ দেওয়া হয়েছে।
মাদারগঞ্জে শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি
বিমানবন্দর থেকে লিমনের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তার পৈতৃক ভিটা জামালপুরের মাদারগঞ্জে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সেখানে মাগরিবের নামাজের পর জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে। লিমনের আত্মীয়রা এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের জন্য বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র— উভয় দেশের সরকারের কাছেই দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
পরিবারের অজানা ছিল শত্রুতা
লিমনের স্বজনরা জানান, রুমমেটের সাথে কোনো ঝামেলা বা ঝগড়ার কথা লিমন কখনো বাসায় বলেনি। সব কিছুই স্বাভাবিক ছিল বলে মনে হতো। হঠাৎ এই ট্র্যাজেডি পুরো পরিবারকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। মেধাবী এই শিক্ষার্থীর এমন পরিণতিতে শোকস্তব্ধ প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিও।
নিরাপত্তা ও বিচার: বিদেশের মাটিতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। লিমনের পরিবার এখন কেবল বিচারের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।
এনএন/৪ মে ২০২৬





