কঙ্গোতে সন্দেহভাজন ইবোলায় তিন রেড ক্রস স্বেচ্ছাসেবকের মৃত্যু | চ্যানেল আই অনলাইন

কঙ্গোতে সন্দেহভাজন ইবোলায় তিন রেড ক্রস স্বেচ্ছাসেবকের মৃত্যু | চ্যানেল আই অনলাইন

আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) সন্দেহভাজন ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তিনজন রেড ক্রস স্বেচ্ছাসেবকের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদেহ ব্যবস্থাপনার সময় তারা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ফেডারেশন (আইএফআরসি)।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, গত ২৭ মার্চ দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি অঞ্চলে একটি প্রকল্পে কাজ করার সময় ওই স্বেচ্ছাসেবকেরা সংক্রমিত হন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সে সময় প্রকল্পটি ইবোলাসংশ্লিষ্ট ছিল না এবং তখনও ওই এলাকায় প্রাদুর্ভাব শনাক্ত হয়নি।

মারা যাওয়া তিন স্বেচ্ছাসেবক হলেন আলিকানা উদুমুসি অগাস্টিন, সেজাবো কাতানাবো এবং আজিকো চান্দিরু ভিভিয়েন। তারা ইতুরির মংওয়ালু শহরে দায়িত্ব পালন করছিলেন, যেটিকে বর্তমানে প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ৫ থেকে ১৬ মে’র মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়।

ডিআর কঙ্গোর চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত ৭৫০টি সন্দেহভাজন সংক্রমণ এবং ১৭০ জনের বেশি সন্দেহভাজন মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মৃত স্বেচ্ছাসেবকদের এই প্রাদুর্ভাবের প্রথম পরিচিত ভুক্তভোগীদের মধ্যে ধরা হচ্ছে।

আইএফআরসি এক বিবৃতিতে জানায়, তারা নিজেদের সম্প্রদায়ের সেবায় “সাহস ও মানবিকতা” নিয়ে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, ইবোলায় মৃত ব্যক্তিদের দেহ থেকেও ভাইরাস ছড়াতে পারে, কারণ মৃত্যুর পরও দেহের তরল পদার্থ অত্যন্ত সংক্রামক থাকে।

এবারের প্রাদুর্ভাবে ইবোলার বিরল এক ধরন, ‘বান্ডিবুগিও’ প্রজাতি শনাক্ত হয়েছে। এই ধরনটির জন্য কার্যকর কোনো প্রমাণিত টিকা নেই এবং এতে আক্রান্তদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের মৃত্যু ঘটে।

শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ডিআর কঙ্গোয় ভাইরাসটির জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মাত্রা ‘উচ্চ’ থেকে বাড়িয়ে ‘অত্যন্ত উচ্চ’ ঘোষণা করে। সংস্থাটির মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস বলেন, আফ্রিকার বিস্তৃত অঞ্চলে ঝুঁকি বেশি থাকলেও বৈশ্বিক ঝুঁকি এখনও কম।

প্রতিবেশী দেশ উগান্ডা শনিবার নতুন তিনটি সংক্রমণের তথ্য নিশ্চিত করেছে। এতে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচে। একই সময়ে আফ্রিকা রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র সতর্ক করে বলেছে, মহাদেশের আরও ১০টি দেশ প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকিতে রয়েছে।

ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যাঙ্গোলা, বুরুন্ডি, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, রুয়ান্ডা, দক্ষিণ সুদান, তানজানিয়া এবং জাম্বিয়া।

এদিকে সংক্রমণ সীমান্ত পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে ইতুরির প্রাদেশিক রাজধানী বুনিয়া থেকে সব বাণিজ্যিক ও ব্যক্তিগত ফ্লাইট স্থগিত করেছে ডিআর কঙ্গো সরকার। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশেষ অনুমোদন ছাড়া কেবল মানবিক, চিকিৎসা বা জরুরি ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হবে।

অন্যদিকে চিকিৎসাসেবামূলক আন্তর্জাতিক সংস্থা মেডিসিনস স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স জানিয়েছে, শুক্রবার মংওয়ালুতে ইবোলা মোকাবিলায় ব্যবহৃত তাদের একটি তাঁবুতে আগুন দেওয়া হয়েছে। এর একদিন আগে ইতুরির অন্য একটি এলাকায় ভাইরাসে মৃত বলে ধারণা করা এক তরুণের মরদেহ দাফনের জন্য নিতে বাধা দিলে ক্ষুব্ধ জনতা একটি হাসপাতালের অংশে আগুন ধরিয়ে দেয়।

এক বিবৃতিতে এমএসএফ জানায়, দ্রুত পরিবর্তনশীল এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা এখনও প্রবল। সংস্থাটি বলেছে, এ ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে যে জনসম্পৃক্ততা ও আস্থা তৈরির কাজ কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

ইতুরির পাশাপাশি উত্তর ও দক্ষিণ কিভু অঞ্চলগুলোতেও সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। তবে পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকা বিদ্রোহী গোষ্ঠী এম২৩-এর নিয়ন্ত্রণে থাকায় ভাইরাস মোকাবিলার কাজ আরও জটিল হয়ে পড়েছে।

 

Scroll to Top