সকালের নাশতায় ডিম অনেকেরই প্রথম পছন্দ। কেউ পছন্দ করেন সেদ্ধ ডিম, আবার কেউ অমলেট বা ভাজি করে খায়। তবে ওজন কমানোর চেষ্টা করলে প্রশ্ন ওঠে সেদ্ধ ডিম নাকি অমলেট, কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর? পুষ্টিগুণ, প্রোটিন ও ক্যালোরির দিক থেকে এই দুই খাবারের মধ্যে পার্থক্য জানেন না অনেকেই। ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কোনটি আপনার জন্য সঠিক সেটি জানা জরুরি। যেসব বিষয় থেকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে সে নিয়েই এই আলোচনা।
সেদ্ধ ডিম: কম ক্যালোরির সঙ্গে প্রোটিন
সেদ্ধ ডিম তৈরিতে অতিরিক্ত তেল, মাখন বা অন্য কোনো উপাদান লাগে না। তাই এতে কেবল ডিমের প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণই থাকে। একটি বড় সেদ্ধ ডিমে প্রায় ৬ থেকে ৬.৩ গ্রাম উচ্চমানের প্রোটিন থাকে, যা শরীরের প্রয়োজনীয় সব অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড সরবরাহ করে। এ ছাড়া সেদ্ধ ডিমে রয়েছে ভিটামিন বি–১২, ভিটামিন ডি এবং কোলিন, যা শক্তি উৎপাদন, হাড়ের স্বাস্থ্য ও মস্তিষ্কের কার্যকারিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
জার্নাল অব দ্য আমেরিকান কলেজ অব নিউট্রিশনে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, সকালের নাশতায় ডিম খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে এবং পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় তুলনামূলক কম ক্যালোরি গ্রহণ করা হয়। তাই ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ ও ওজন কমাতে সেদ্ধ ডিম কার্যকর হতে পারে।
অমলেট: মজাদার আর পুষ্টিকর
অনেকেই ডিম ভাজি খেতে পছন্দ করে। একটি ডিমের অমলেটেও প্রায় ৬ গ্রাম প্রোটিন থাকে। তবে এর পুষ্টিগুণ অনেকটাই নির্ভর করে কীভাবে অমলেট তৈরি করা হচ্ছে তার ওপর। যেমন-
১ চা–চামচ তেল ব্যবহার করলে প্রায় ৪০ ক্যালোরি বেড়ে যায়।
চিজ যোগ করলে বাড়ে চর্বি ও সোডিয়াম।
প্রক্রিয়াজাত মাংস ব্যবহার করলে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ বাড়তে পারে
ওজন কমাতে সবজি দেয়া ডিম ভাজি খেতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। সবজি মেশানো অমলেট খাবারের পরিমাণ বাড়ায়, কিন্তু ক্যালোরি খুব বেশি বাড়ায় না। যার কারণে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে আর হজম ধীরে হয়। রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল থাকে। বারবার ক্ষুধা লাগার প্রবণতা কমে।
প্রোটিন দিক থেকে কোনটি এগিয়ে
প্রোটিনের ক্ষেত্রে সেদ্ধ ডিম ও একটি ডিমের অমলেট প্রায় সমান। উভয়েই প্রায় ৬ গ্রাম প্রোটিন দেয়। পার্থক্য তৈরি হয় ডিম ভাজিতে দেয়া অতিরিক্ত উপাদানের কারণে। সেদ্ধ ডিমে অতিরিক্ত ক্যালোরি থাকে না, কিন্তু অমলেটে তেল, চিজ বা অন্যান্য উপাদান যোগ করলে ক্যালোরি দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।
ওজন কমাতে কোনটি বেছে নেবেন
যদি ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণই প্রধান লক্ষ্য হয়, তাহলে সেদ্ধ ডিম তুলনামূলক ভালো বিকল্প। এটি সহজ, কম ক্যালোরিযুক্ত এবং পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করাও সহজ। অন্যদিকে, কম তেলে তৈরি এবং প্রচুর সবজি দেয়া দুই ডিম ভাজি বেশি সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। ফলে অস্বাস্থ্যকর নাশতা বা অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন কমাতে সেদ্ধ ডিম ও স্বাস্থ্যকর ভাজি দুটিই ভালো বিকল্প। কোনটি খাবেন সেটা নির্ভর করবে আপনার রান্নার ধরন আর দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের ওপর। ডিম ভাজি পছন্দ হলে স্বাস্থ্যকর উপায়ে খেলে সমস্যা নেই। তাই যে খাবার পছন্দ সেটার স্বাস্থ্যকরভাবে তৈরি করুন, এতে ওজন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি স্বাদও ঠিক থাকবে।
সূত্র: এনডিটিভি



