ভারতের খ্যাতিমান নির্মাতা অনুরাগ কাশ্যপের কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসা পাওয়া সিনেমা ‘কেনেডি’। সম্প্রতি ভারতে সিনেমাটি মুক্তির পর আলোচনায় অভিনেত্রী সানি লিওন। এই সিনেমায় তার অভিনয় নজড় কেড়েছে চলচ্চিত্র সমালোচকদের। এরআগে সানি লিওন অভিনীত কোনো সিনেমা নিয়ে খুব একটা কথা বলতে দেখা যায়নি সিনেবোদ্ধাদের। কিন্তু ব্যতিক্রম ‘কেনেডি’। নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলা এবং এই ছবি তার ক্যারিয়ারে কতটা গুরুত্বপূর্ণ-এসব নিয়ে সম্প্রতি সানি কথা বলেছেন ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ডেকান ক্রনিকলকে। তার সেই সাক্ষাৎকারটি ভাষান্তর করা হলো চ্যানেল আই অনলাইনের পাঠকদের জন্য:
‘কেনেডি’ আপনার সচরাচর ইমেজ থেকে একদম আলাদা এক বাঁক। শুটিংয়ের সময় কি মনে হয়েছিল এটাই ‘সানি ২.০’ যুগ?
আমি কখনও ‘২.০’ যুগ নিয়ে ভাবিনি। তবে আলাদা বাঁকের কথা যদি বলতেই হয়, সেটা লেখক ও পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ। তিনি কীভাবে তাঁর অভিনেতা ও চরিত্রকে উপস্থাপন করেন, সেটাই এখানে মূখ্য। তার সৃষ্ট চরিত্র অন্ধকার, ধূসর, মজার বা হালকা—যাই হোক না কেন, তিনি অভিনেতাদের এমনভাবে দাঁড় করান যাতে তারা বিকশিত হতে পারেন। এটাই সবচেয়ে বড় বিষয়। আশা করি দর্শকরা সেটা বুঝবেন এবং ভবিষ্যতে আমি আরও ভালো কাজের সুযোগ পাব।

‘কেনেডি’ কি দর্শককে চমকে দেওয়ার চেষ্টা, সমালোচকদের জবাব, নাকি নিজেকেই চমকে দেওয়া?
আমি কাউকে চমকে দেওয়ার পরিকল্পনা করিনি। বিষয়টা ছিল প্রস্তাবটা নিয়ে। অনুরাগ কাশ্যপ যখন আপনাকে অডিশন দিতে বা তাঁর ছবিতে কাজ করতে বলেন, তখন একজন অভিনেতাকে বুঝতে হয় এর গুরুত্ব কী। এটা কাউকে চমকে দেওয়ার বিষয় ছিল না, বরং একটা বড় সুযোগ! অনেকেই বলে- ‘এই চরিত্র তোমার ক্যারিয়ার বদলে দেবে’; কিন্তু বেশিরভাগ সময় তা শুধু কথার কথা। তবে আমি বিশ্বাস করি, ‘কেনেডি’-তে আমার চরিত্র সত্যিই অনেক কিছু বদলে দিতে পারে। এটা আমার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
অনুরাগ কাশ্যপ অভিনেতাদের অস্বস্তিকর, কাঁচা জায়গায় নিয়ে যেতে পটু। শুটিংয়ের সময় তাঁর কোন নির্দেশনা আপনাকে সবচেয়ে বদলে দিয়েছে?
আমি চেয়েছিলাম তাঁর সঙ্গে কাজ করার সময় নিজেকে একজন ভালো শ্রোতা হিসেবে গড়ে তুলতে। বেশি না ভেবে, তাঁর নির্দেশনা মেনে নিজের সর্বোচ্চটা দিতে। সেটে তাঁর গল্প শোনা, চরিত্র নিয়ে আলোচনা, সংলাপ অনুশীলন, রিহার্সেল- সবকিছু থেকেই শিখেছি। এই প্রস্তুতিগুলোই সবচেয়ে বড় পার্থক্য তৈরি করেছে।

গ্ল্যামারাস চরিত্র, টিভি রিয়্যালিটি, ব্যবসা- সবকিছুর পর নোয়ার ঘরানায় কাজ করা কি অভিনেত্রী হিসেবে কিছু ফিরে পাওয়ার মতো?
আমি এটাকে কিছু ফিরে পাওয়া বলব না। আমার কাছে এটা একটি অসাধারণ প্রজেক্টে কাজ করার সুযোগ! আমরা অভিনেতারা সবসময় ভিন্ন কিছু করতে চাই। বাইরে থেকে মানুষ বা মিডিয়া যেভাবেই দেখুক, কাজের সময় প্রতিটি চরিত্রই আমাদের কাছে আলাদা। তিনি আমাকে মেলে ধরার সুযোগ দিয়েছেন—আশা করি দর্শকরা তা দেখবেন।
এমন কোনো স্বপ্নের চরিত্র আছে, যা সবসময় করতে চেয়েছেন?
সাইকোলোজিক্যাল থ্রিলার আমার খুব পছন্দের। দীর্ঘ ড্রামা, যেখানে একটা অসাধারণ গল্পকে অনুসরণ করা যায়- এ ধরনের চরিত্রে কাজ করতে মজা লাগে। আর অবশ্যই, সুপারহিরো চরিত্রে অভিনয় করতে পারলে দারুণ হবে।

অনুরাগ কাশ্যপের সঙ্গে কাজ মানেই গ্ল্যামার বা জাঁকজমক বিষয়গুলো ছাড়তেই হবে। আপনার ক্ষেত্রে কী ছাড়তে হয়েছে?
আপনি কোন অর্থে বলছেন বুঝতে পারছি না, কারণ চার্লি চরিত্রটি খুব গ্ল্যামার বা রূপ-সচেতন। সে জানে তার সৌন্দর্য, হাসি, পোশাক সবই চরিত্রের অংশ। তবে রূপক অর্থে বললে, পরিচালকের কথা মন দিয়ে শোনা, নির্দেশনা মেনে চলা, নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়া এবং পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকাই আসল।
এটা কি কামব্যাক, নাকি ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা দাবি করার গল্প?
প্রতিটি কাজের সঙ্গে জীবন এগিয়ে যায়। এগোতে গেলে বদলাতে হয়, নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে হয়, এটাই স্বাভাবিক। কেউ যদি একই কাজ বারবার করে, না বদলায়, না বেড়ে ওঠে- তাহলে সেটাই অস্বাভাবিক। এটা আসলে জীবনের পরবর্তী অধ্যায়, ভিন্ন এক দিকে এগিয়ে যাওয়ার গল্প। ডেকান ক্রনিকল




