এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত পরিবর্তনশীল যুগে বাবা-মা বা বয়োজ্যেষ্ঠদের দেওয়া প্রথাগত ক্যারিয়ার পরামর্শ অন্ধভাবে অনুসরণ করা তরুণদের জন্য বড় ভুল হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ওপেন এআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান।
ভারতের আইআইটি দিল্লি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানায় হিন্দুস্তান টাইমস।
ডোগরা হলে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে অল্টম্যান বলেন, “আমার মনে হয় তরুণরা সবচেয়ে বড় যে ভুলটি করে তা হলো বয়স্কদের সব কথা শোনা।” তার এই মন্তব্যে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাসির রোল পড়লেও, তিনি দ্রুতই এর গভীর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন।
তিনি বলেন, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্ব এত দ্রুত বদলে যাচ্ছে যে, অতীত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নির্ধারণ করা সবসময় কার্যকর নাও হতে পারে। “আপনাদের খুব দ্রুত নিজেদের স্বকীয়তা বা ইনটিউশন তৈরি করতে হবে এবং তার ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে,” বলেন তিনি।
তবে অল্টম্যান পরিষ্কার করে দেন, তিনি নৈতিক মূল্যবোধ শেখার ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের গুরুত্ব অস্বীকার করছেন না। বরং তিনি বলেন, “লাইফ ভ্যালুজ শেখার ক্ষেত্রে অভিভাবকরাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথপ্রদর্শক। কিন্তু ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে তরুণদের নিজেদের বিচারবোধ তৈরি করা জরুরি।”
বক্তৃতায় তিনি “এজেন্সি” বা নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তার ভাষায়, “এজেন্সি একটি শেখার মতো দক্ষতা। পৃথিবী আপনাকে নিরুৎসাহিত করতে পারে, কিন্তু আপনাকে বিশ্বাস রাখতে হবে যে আপনি সমস্যার সমাধান করতে পারবেন।”
এআই প্রযুক্তির কারণে একজন ব্যক্তির সক্ষমতা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অল্টম্যান বলেন, “আগে যে কাজ করতে বড় দল প্রয়োজন হতো, এখন একজন ব্যক্তিই এআই-এর সাহায্যে তা করতে পারে।”
তিনি শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিতে ভয় না পাওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, ব্যর্থতার অভিজ্ঞতাই অনেক সময় সফলতার পথ তৈরি করে। তিনি বলেন, “আপনার আইডিয়া যদি সঠিক হয়, তবে তা শুরুতে জনপ্রিয় না হলেও সমস্যা নেই। দীর্ঘ সময় ধরে লেগে থাকলে অসাধারণ কিছু অর্জন করা সম্ভব।”
চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রসঙ্গে অল্টম্যান বলেন, এআই কিছু চাকরি বিলীন করে দিতে পারে, তবে একই সঙ্গে নতুন ধরনের অনেক কাজও তৈরি হবে। “আপনারা ভবিষ্যতে এমন কাজ করবেন, যার ধারণা এখনো তৈরি হয়নি,” বলেন তিনি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা টেক ইউনিভার্সিটি–এর সাইবারস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বাংলাদেশি পিএইচডি গবেষক মেহরাব হোসেন রবিনও একই ধরনের মত প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এআই-কে প্রতিযোগী হিসেবে নয়, বরং সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করতে পারলে এটি মানুষের দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অল্টম্যানের এই বক্তব্য এআই যুগে ক্যারিয়ার পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে। প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতে সফল হতে হলে তরুণদের নিজস্ব চিন্তাশক্তি, অভিযোজন ক্ষমতা এবং নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতার ওপর জোর দিতে হবে।




