তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সবচেয়ে বাস্তব ঝুঁকি আসছে ব্যাংক খাতের ভেতর থেকেই। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় একের পর এক শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার খবর এসেছে, যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে তরুণ শ্রমিকদের কর্মসংস্থানে।
ঋণ আদায়ে কঠোর নজরদারি ও ঋণ পুনর্গঠনে ব্যাংকগুলোর দীর্ঘসূত্রতা এই সংকটকে আরও গভীর করেছে।
অথচ সম্ভাবনাও কম নয়—চট্টগ্রামে সম্প্রতি এক মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি কনসেপ্ট পেপারে উঠে এসেছে, শুধু চট্টগ্রাম অঞ্চলেই বন্ধ বা বন্ধের উপক্রম হওয়া প্রায় ২০০টি কারখানা পুনরায় চালু করা গেলে নতুন করে প্রায় ১০ লাখ কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে।
এই সংকট ও সম্ভাবনা—দুই ক্ষেত্রেই তরুণদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি রাখে।
এছাড়াও সার্বিক পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বন্ধ কারখানা সচল করতে ২০ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল ঘোষণা করেছে, মাত্র ৭ শতাংশ সুদে।
তবে উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, এই সুবিধা পেতে ‘ক্লিন সিআইবি রিপোর্ট’-এর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে—ফলে যে প্রতিষ্ঠানের সহায়তা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সে-ই আবার শর্তের কারণে বাদ পড়ার ঝুঁকিতে।
এই দ্বৈত সংকট—জামানতের কড়াকড়ি ও সংকুচিত ঋণপ্রবাহ—তরুণ উদ্যোক্তাদের সেই পুরোনো ‘মিসিং মিডল’ সমস্যায় আটকে রাখছে, যেখানে বীজ পর্যায়ের ভালো আইডিয়া বড় ব্যবসায় রূপ নিতে পারছে না।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্বালানি ব্যয়ের নতুন চাপ। এপ্রিলে জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে বাড়ানো হয়েছে, জুনে বিদ্যুতের দামও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে।
এই মূল্যবৃদ্ধির আঘাত সবচেয়ে বেশি লাগে যাদের দরকষাকষির ক্ষমতা সবচেয়ে কম, অর্থাৎ তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ওপর।
প্রতিষ্ঠিত শিল্পগোষ্ঠী ব্যয়বৃদ্ধির চাপ পণ্যমূল্যে সমন্বয় করে নিতে পারে; সদ্য শুরু করা তরুণ উদ্যোক্তার সেই সামর্থ্য নেই।
উৎপাদন-পরিবহন ব্যয় বাড়ে, আবার ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতা কমায় বিক্রিও কমে—দুই দিক থেকেই চাপ আসে একসঙ্গে।
অন্তত ব্যবসার প্রথম দুই-তিন বছরের জন্য ক্ষুদ্র ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক জ্বালানি ভর্তুকি বিবেচনা করা যেতে পারে।