ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে অনেকের হাঁচি, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া ও নাক বন্ধ হওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে অক্টোবর মাসে এ ধরনের উপসর্গ বাড়তে পারে। অনেকে একে সাধারণ সর্দি-জ্বর মনে করলেও সব ক্ষেত্রে এর কারণ ভাইরাস নয়। বাতাসের ধুলাবালি, পরাগরেণু, ছত্রাক ও আবহাওয়ার পরিবর্তন থেকেও অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে।
শ্বাসতন্ত্রের রোগ বিশেষজ্ঞরা জানান, অ্যালার্জির কারণে নাকের ভেতরের আবরণে প্রদাহ তৈরি হলে তাকে অ্যালার্জিক রাইনাইটিস বলা হয়। আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় এই সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং বছর বছর ফিরে আসতে পারে। এর সাধারণ লক্ষণ হলো বারবার হাঁচি, নাক ও চোখ চুলকানো, নাক বন্ধ থাকা, নাক দিয়ে স্বচ্ছ পানি পড়া এবং কাশি।
ঋতু পরিবর্তনে অ্যালার্জি কেন বাড়ে
আবহাওয়ার পরিবর্তন: ঠান্ডা বাতাস সাধারণত শুষ্ক হয়। এই বাতাস শ্বাসনালিতে প্রবেশ করলে জ্বালাপোড়া তৈরি হতে পারে এবং শ্বাসনালি সংকুচিত হয়ে আসতে পারে। একে ব্রঙ্কোস্পাজম বলা হয়। হাঁপানি বা দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ সমস্যা বেশি হতে পারে। তবে সুস্থ মানুষেরও ঠান্ডা বাতাসে কাশি বা শ্বাসের সঙ্গে বাঁশির মতো শব্দ হতে পারে।
ধুলার ক্ষুদ্র মাইট: বিছানার চাদর, বালিশ, কার্পেট ও সোফায় থাকা খালি চোখে দেখা যায় না এমন ক্ষুদ্র প্রাণীকে ডাস্ট মাইট বলা হয়। এগুলোর বর্জ্য ও দেহের ভাঙা অংশ নাক ও শ্বাসনালিতে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
ছত্রাক: ঘরের স্যাঁতসেঁতে কোণে ছত্রাক জন্মাতে পারে। এর ক্ষুদ্র স্পোর বাতাসে ছড়িয়ে শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে অ্যালার্জি ও হাঁপানির সমস্যা বাড়াতে পারে। শরৎ ও শীতকালে ঘরের ভেতরে ছত্রাকের উপস্থিতি বেড়ে যেতে পারে।
পরাগরেণু: উদ্ভিদের পরাগরেণুকে শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা ক্ষতিকর হিসেবে শনাক্ত করলে নাকের ভেতরে প্রদাহ তৈরি হতে পারে। ফলে হাঁচি, নাক চুলকানো ও পানি পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
সর্দি নাকি অ্যালার্জি, বুঝবেন যেভাবে
সাধারণ সর্দির সঙ্গে জ্বর ও শরীরব্যথা থাকতে পারে। সাধারণত এক সপ্তাহের মধ্যে তা কমে যায়। অন্যদিকে, অ্যালার্জিতে নাক ও চোখ চুলকানো, স্বচ্ছ পানি পড়া এবং কয়েক সপ্তাহ ধরে বারবার উপসর্গ দেখা দেওয়ার প্রবণতা থাকে।
কাশির সঙ্গে শ্বাসে বাঁশির মতো শব্দ বা রাতে শ্বাসকষ্ট হলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। এ ধরনের লক্ষণ হাঁপানির ইঙ্গিত হতে পারে।
ঘরে বসে অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণের উপায়
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, নিয়ম করে গরম পানিতে বিছানার চাদর ও বালিশের কভার ধুয়ে রোদে শুকালে ডাস্ট মাইটের সংস্পর্শ কমতে পারে। ঘরের আর্দ্রতা ৫০ শতাংশের নিচে রাখার চেষ্টা করা উচিত। স্যাঁতসেঁতে জায়গা পরিষ্কার রাখা এবং ছত্রাক জমতে না দেওয়াও জরুরি।
গরম পানীয় ও স্যুপ গলার অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি ফলমূল ও শাকসবজি খেলে শরীরের সাধারণ পুষ্টির চাহিদা পূরণ হয়। তবে কোনো খাবারই অ্যালার্জি সারানোর নিশ্চিত উপায় নয়। উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস


