‘ফুলের মতো আপনি ফুটাও গান’ প্রতিপাদ্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের আয়োজনে দেশি-বিদেশি প্রায় ১২৭ প্রজাতির লক্ষাধিক ফুলের সমারোহে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী ফুল উৎসব।
বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) থেকে সীতাকুণ্ড উপজেলার ফৌজদারহাট সাগরপাড়ে অবস্থিত এ উৎসব শুরু হয়। চলবে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, ম্যাগনলিয়া, শিউলি, হাসনাহেনা, অপরাজিতা, চেরী, জাকারান্ডা, উইলো, উইস্টেরিয়াসহ থাকবে আরও অন্যান্য ফুল।
মাসব্যাপী এ ফুল উৎসবের উদ্বোধন করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন। এবং অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও অনুষ্ঠানের সভাপতি আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান।
এসময় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, যেহেতু প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী ইশতেহারে পর্যটনে গুরুত্ব দিয়েছেন, এই ফুল উৎসবের মাধ্যমে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর চিন্তা চেতনাকে সামনে নিয়ে যাওয়ার অবারিত সুযোগ রয়েছে। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিবেশ ও সুযোগ তৈরি করতে হবে। আমি চাই, দেশের সকল জেলা প্রশাসক এই ধরনের আয়োজনে এগিয়ে আসুক।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, অবৈধ দখল, মাদক অভয়ারণ্যকে ফুলের বাগিচা বানানো হয়েছে। এটাকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলে দেশের অর্থনৈতিক বিকাশে ভূমিকা রাখা যাবে। পাশাপাশি এই উদ্যোগ যেন ক্ষণিকের উদ্যোগ না হয় এবং এর ধারাবাহিকতা যাতে বজায় থাকে সেজন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে এগিয়ে আসার অনুরোধ করছি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলাম। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, পরবর্তী প্রজন্মকে সুন্দর ও জঙ্গিবাদকে সমূলে নির্মূল করতে এই ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া, এটা একধরনের সতর্কবাতা যে, সরকারি জায়গা কেউ দখলে রাখতে পারবে না। এধরণের জায়গা ক্রমান্বয়ে উদ্ধার করে জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করা হবে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রী ডিসি পার্ক, নৌকা জাদুঘর, পর্যটন বাস ও ফুল ডে ট্যুর, স্কুল বাস, বার্ড পার্ক এই ৬টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এছাড়াও প্রতি উপজেলায় পার্ক, খেলার মাঠ করার মহাপরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। সরকারি জমি উদ্ধার করে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
ফুল উৎসবের দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে আরও রয়েছে নেদারল্যান্ডস থেকে আনা বাল্বে জেলা প্রশাসনের নিজ ব্যবস্থাপনায় ফুটানো সাড়ে পাঁচ হাজার টিউলিপ। এসকল ফুলের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে প্রত্যেক প্রজাতির পাশেই লেখা রয়েছে নাম ও বৃত্তান্ত। মাসব্যাপী এ আয়োজনকে আরো আকর্ষণীয় করতে ফুল প্রদর্শনীর পাশাপাশি রয়েছে ছবি তোলার জন্য কয়েকটি সেল্ফি জোন।
উৎসবকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে পর্যটকদের জন্য রয়েছে সাম্পান বাইচের আয়োজন। আবহমান বাংলার ঐতিহ্য রক্ষার্থে বিভিন্ন সময়ের ১৫টি নৌকা প্রদর্শনী করা হয়েছে এতে। তাছাড়া, প্রদর্শনীতে রয়েছে চট্টগ্রাম জেলার চিত্রশিল্পীদের প্রায় ২০০টি চিত্রকর্ম। ব্যবস্থা রয়েছে আগত দর্শনার্থীদের নিজেদের ছবির ক্যারিকেচার আঁকার। বিনোদন প্রেমীদের জন্য রয়েছে সানসেট ভিউ পয়েন্ট, পিজিওন কর্নার, স্যুভেনির শপ, দিঘীতে কায়াকিংয়ের ব্যবস্থা ও লোনা পানির ঝর্ণা।
ফুল উৎসবকে আরও ঝাঁকজমকপূর্ণ করতে আয়োজন করা হয়েছে বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতির অংশগ্রহণে মাল্টি কালচারাল বিশেষ আয়োজন— ঘুড়ি উৎসব, ফায়ার ওয়ার্কস, ভায়োলিন শো, পুতুল নাচ, জাদু প্রদর্শনী। এছাড়াও প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার শিল্পীদের পরিবেশনায় থাকবে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা।
এছাড়াও দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে রয়েছে ট্যুরিস্ট শেড, নামাজের ব্যবস্থা, বিভিন্ন ধরনের খাবারের স্টলসহ পর্যাপ্ত শৌচাগারের ব্যাবস্থা। শিশু- কিশোরদের বিনোদনের জন্য নাগরদোলা, দোলনা, সীসঅ, স্প্রিং টয়, মেরিগো রাউন্ড, দোলনা, প্লেপেন, ফুট ট্রাম্পোলাইনসহ নানা আয়োজন।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৪ জানুয়ারি সীতাকুণ্ডের সলিমপুরে মাদকের আস্তানা গুড়িয়ে দিয়ে জেলা প্রশাসন কর্তৃক প্রায় ১৯৪ একর খাস জমি অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত জায়গায় মাত্র একমাসের মধ্যে ৯ ফেব্রুয়ারি হতে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১০ দিনব্যাপী চট্টগ্রামে প্রথম ফুল উৎসবের আয়োজন করা হয়। সে সময় ১২২ প্রজাতির ফুলের চমকপ্রদ প্রদর্শনীর মাধ্যমে উদযাপন করা হয়েছিলো ফুল উৎসব ২০২৩।



