
ঝিনাইদহ, ১৫ মার্চ – আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঝিনাইদহ ও এর আশপাশের জেলাগুলোতে জালনোট চক্রের অপতৎপরতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ঈদের আগে বাজারে কেনাকাটা ও লেনদেন বাড়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সংঘবদ্ধ চক্রগুলো জাল টাকা ছড়িয়ে দিচ্ছে।
এতে চরম আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়েছেন স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। ঝিনাইদহ শহরের পায়রা চত্বর এলাকার ফল ব্যবসায়ী কাওসার আলী সম্প্রতি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তিনি জানান, ইফতারের কিছু সময় আগে দুই যুবক মোটরসাইকেলে করে এসে আড়াই হাজার টাকার ফল কেনেন। তারা টাকা পরিশোধ করে যাওয়ার পর আড়তে টাকা জমা দেওয়ার সময় তিনি বুঝতে পারেন, তাকে দেওয়া এক হাজার টাকার দুটি নোটই জাল ছিল।
একইভাবে শহরের কেপি বসু সড়কের কাপড় ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমানও প্রতারণার শিকার হন। তার দোকানে এক ক্রেতা এসে সাত হাজার টাকার শাড়ি কিনে একেবারে নতুন নোটে বিল পরিশোধ করেন। পরে যাচাই করে তিনি দেখতে পান, ওই টাকার মধ্যে চার হাজার টাকাই জালনোট।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতারক চক্রগুলো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে জালনোট তৈরি করছে যা সাধারণ মানুষের পক্ষে সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের তথ্যমতে, জালনোটের কারবার এখন শুধু মাঠপর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই, বরং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে শতাধিক পেজ খুলে লোভনীয় অফার দেওয়া হচ্ছে।
এসব পেজ থেকে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতাদের কাছে নকল টাকা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। জানা গেছে, এক লাখ টাকার জালনোট বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায়। দ্রুত বড়লোক হওয়ার আশায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের একটি অংশও এই অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. লিয়াকত হোসেন বলেন, যেকোনো বড় উৎসব এলেই জালনোটের লেনদেন আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যায়। প্রতারকদের মূল লক্ষ্য থাকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঈদের সময় প্রশাসনের নজরদারি আরও কঠোর করার পাশাপাশি বাজারে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।
সোনালী ব্যাংক ঝিনাইদহের উপব্যবস্থাপক বসির উদ্দিন জাল টাকা চেনার উপায় সম্পর্কে জানান, আসল টাকার নোটে জলছাপ, নিরাপত্তা সুতা এবং রং পরিবর্তনশীল কালির মতো বেশ কিছু নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য থাকে। এগুলো ভালোভাবে যাচাই করলে জালনোট ধরা সম্ভব।
তবে ঈদের সময় প্রচণ্ড ভিড় ও তাড়াহুড়োর কারণে ব্যবসায়ীরা প্রতারিত হচ্ছেন। এ বিষয়ে ঝিনাইদহ র্যাব ক্যাম্পের অধিনায়ক মেহেদি ইমরান সিদ্দিকি জানিয়েছেন, জালনোটের সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোকে ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
র্যাবের সাইবার মনিটরিং টিম অনলাইনে বিজ্ঞাপনদাতাদের বিরুদ্ধে কাজ করছে এবং ইতিমধ্যে কয়েকটি চক্র সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছে। তিনি আরও জানান, এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
এ এম/ ১৫ মার্চ ২০২৬





