ইরানের হামলা প্রমাণ করল দুবাই ‘নিরাপদ নয়’ | চ্যানেল আই অনলাইন

ইরানের হামলা প্রমাণ করল দুবাই ‘নিরাপদ নয়’ | চ্যানেল আই অনলাইন

এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ

কয়েক দশক ধরে দুবাইয়ের উজ্জ্বল স্কাইলাইন স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত। দেশটি নিজেকে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি, পর্যটন ও বিমান চলাচলের কেন্দ্র হিসেবে উপস্থাপন করেছিল, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা পৌঁছাতে পারবে না এমন ধারণা তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সাম্প্রতিক সংঘাত এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করছে।

সোমবার (২ মার্চ) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের শীর্ষস্থানীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করার পর তেহরান দ্রুত এবং বিস্তৃত প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়। এই প্রতিক্রিয়া শুধু ইসরায়েল বা মার্কিন ঘাঁটি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকেনি; ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা একাধিক দেশে ছড়িয়ে পড়ে, যার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতও রয়েছে।

দুবাইয়ে আতঙ্কের মুহূর্ত

হামলার দিনগুলোতে দুবাই ও পার্শ্ববর্তী এমিরেটগুলোতে বিস্ফোরণ এবং এয়ার-ডিফেন্স ব্যবস্থার ইন্টারসেপশন রিপোর্ট করা হয়। কিছু ক্ষেপণাস্ত্র নাগরিক এলাকা, হোটেল, বন্দরের স্থাপনাগুলো এবং বিমানবন্দর এলাকায় আঘাত হানে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতে কমপক্ষে তিনজন নিহত এবং দুশো মানুষ আহত হয়।

নাগরিক ও পর্যটকদের জন্য পরিস্থিতি ছিল অদ্ভুত। বিলাসবহুল ক্লাব ও চকচকে শপিং মল নিয়ে পরিচিত শহরে অনেকেই প্রথমে বিস্ফোরণের শব্দকে আতশবাজি মনে করেছিলেন। পরে জরুরি সতর্কবার্তা দেওয়া হয় এবং হোটেলগুলোতে অতিথিদের আশ্রয় দেওয়া হয়।

হামলা বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রমও ব্যাহত করেছে। দুবাইয়ের প্রধান বিমানবন্দরে ফ্লাইট স্থগিত হয়, উপসাগরীয় আকাশপথ বন্ধ হয়ে যায় এবং অঞ্চলের বিভিন্ন রুট বাতিল হয়, যার ফলে হাজারও যাত্রী আটকা পড়েন এবং এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মধ্যে সংযোগ ব্যাহত হয়।

প্রভাব, আঞ্চলিক উত্তেজনা

হামলার প্রভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধান শেয়ারবাজারে সাময়িকভাবে লেনদেন স্থগিত করা হয়, কারণ পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

দুবাইয়ের এই দুর্বলতা কেবল একটি স্থানীয় সমস্যা নয়। ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলা কাতার, বাহরাইন এবং কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য স্থানে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে, যেখানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো রয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের এয়ার-ডিফেন্স ব্যবস্থা শতাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আটক করেছে, যা ইরানের প্রতিক্রিয়ার মাত্রা এবং অঞ্চলের সংবেদনশীলতা প্রকাশ করে।

নিরাপত্তার ধারণা ভেঙে গেছে

দুবাই বহু বছর ধরে ধারণা করেছিল যে শহরটি আঞ্চলিক অস্থিরতার বাইরে থাকতে পারে। তবে সাম্প্রতিক হামলা দেখিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের ঘন সংযুক্ত পরিবেশে কোনো বড় শহর পুরোপুরি রাজনৈতিক ঝুঁকি থেকে বঞ্চিত নয়। যদিও দুবাইয়ের দ্রুত পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা এয়ার-ডিফেন্স ও অর্থনৈতিক জরুরি পরিকল্পনা নির্বিঘ্নতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনার ফলে শহরের সাবধানে তৈরি করা নিরাপত্তার ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে।

দুবাই হয়তো এখনও অঞ্চলের সবচেয়ে নিরাপদ শহরগুলোর মধ্যে একটি। কিন্তু ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলা প্রমাণ করেছে, গালফের সবচেয়ে উন্নত শহরও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ছায়া থেকে পুরোপুরি মুক্ত নয়।

Scroll to Top