ইরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে উচ্চমাত্রার হামলার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এমন প্রেক্ষাপটে বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে অন্যান্য দেশকে চাপ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
মার্কিন গণমাধ্যম এবিসি নিউজের হাতে পাওয়া একটি গোপন বার্তার (কেবল) বরাতে জানা যায়, রুবিও কূটনীতিকদের নির্দেশ দিয়েছেন বিদেশি সরকারগুলোকে আহ্বান জানাতে, যাতে তারা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে ইরান ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা চালানোর সক্ষমতা কমিয়ে আনে।
সোমবার (১৬ মার্চ) পাঠানো ওই নির্দেশনা বিশ্বব্যাপী সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটের জন্য জারি করা হয়। ‘আইআরজিসি কার্যকলাপ নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি’ শিরোনামের এই বার্তায় ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী (আইআরজিসি)-এর তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়, এই বার্তাটি ‘উপযুক্ত সর্বোচ্চ পর্যায়ে’ পৌঁছে দিতে হবে এবং তা ২০ মার্চের মধ্যেই সম্পন্ন করতে হবে। যদিও বার্তাটি সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত, তবে এটি শ্রেণিবদ্ধ নয়।
এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দিতে একটি জোট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, এ বিষয়ে সহায়তায় সম্মত দেশগুলোর তালিকা শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।
রুবিওর বার্তায় ইরান বা তাদের মিত্রদের সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত বলা হয়নি। তবে এতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, একক পদক্ষেপের চেয়ে সম্মিলিত উদ্যোগই বেশি কার্যকর হবে।
বার্তায় উল্লেখ করা হয়, আমাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরানি শাসনব্যবস্থা একক পদক্ষেপের চেয়ে সম্মিলিত পদক্ষেপে বেশি সংবেদনশীল এবং যৌথ চাপই তাদের আচরণ পরিবর্তনে বেশি কার্যকর হতে পারে।
এতে আরও বলা হয়, বর্তমানে আন্তর্জাতিক মনোযোগ যখন এই ইস্যুতে কেন্দ্রীভূত, তখনই আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বজুড়ে ইরানের সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধ করতে। এই সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মনোযোগী। আইআরজিসি, হিজবুল্লাহ এবং অন্যান্য ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী সরকারগুলোকে অস্থিতিশীল করে এবং আঞ্চলিক শান্তি ব্যাহত করে।
এছাড়া কূটনীতিকদের আরও কিছু বার্তা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের দীর্ঘদিনের সেই প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরা, যার মাধ্যমে তারা হামাস, হিজবুল্লাহ এবং ইরাকি মিলিশিয়াদের সমর্থন দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি করে আসছে।
বার্তায় অপারেশন এপিক ফিউরির লক্ষ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিষ্ক্রিয় করা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করা, তাদের মিত্র নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং নৌ সক্ষমতা কমিয়ে আনা।
একই সঙ্গে বলা হয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ইসরায়েলি কূটনীতিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে চালানো যেতে পারে।
এছাড়া যেসব দেশ এখনো আইআরজিসি ও হিজবুল্লাহকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেনি, সেসব দেশে কর্মরত মার্কিন কূটনীতিকদের দ্রুত এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোকে উৎসাহিত করতে বলা হয়েছে।
বার্তায় বলা হয়, এ ধরনের ঘোষণা ইরানি শাসনের ওপর চাপ বাড়াবে এবং বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তাদের সহায়তা করার সক্ষমতা সীমিত করবে, যা আপনার দেশের জনগণের নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
এতে আরও অভিযোগ করা হয়, আইআরজিসি বিদেশি ভূখণ্ডে সরাসরি সন্ত্রাসী হামলা ও হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত এবং গুপ্তচরবৃত্তি ও প্রভাব বিস্তারের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।






