ইরানকে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি—’চুক্তি না হলে খুব খারাপ সময় আসছে’ – DesheBideshe

ইরানকে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি—’চুক্তি না হলে খুব খারাপ সময় আসছে’ – DesheBideshe


ইরানকে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি—’চুক্তি না হলে খুব খারাপ সময় আসছে’ – DesheBideshe

ওয়াশিংটন, ১৭ মে – মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে স্পষ্ট ভাষায় চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, শিগগিরই কোনো শান্তিচুক্তি না হলে তেহরানের জন্য ‘খুব খারাপ সময়’ অপেক্ষা করছে। ফরাসি প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘বিএফএমটিভি’ (BFMTV)-কে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের এই কড়া বার্তা বিশ্বজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। খবর আল-জাজিরা ও নিউইয়র্ক টাইমসের।

সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “ইরানিদের জন্য এই মুহূর্তে একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। তারা যদি তা না করে, তবে তাদের এমন এক খারাপ সময় পার করতে হবে যা তারা কল্পনাও করতে পারছে না।” ট্রাম্পের দাবি, এই চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের চেয়ে ইরানের নিজস্ব স্বার্থ ও টিকে থাকার লড়াই অনেক বেশি জড়িত।

এদিকে মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান সংকট নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন আর বেশিদিন অপেক্ষা করতে রাজি নয়। চলমান অচলাবস্থা ভাঙতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেকোনো সময় ইরানের ওপর বড় পরিসরে বিমান ও বোমাবর্ষণের (Bombing) সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ট্রাম্পের শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টারা ইতিমধ্যে ইরানে পুনরায় এক বিশাল সামরিক অভিযান শুরু করার একটি সম্পূর্ণ রূপরেখা বা ‘অপারেশনাল ব্লুপ্রিন্ট’ তৈরি করে রেখেছেন। ট্রাম্প সবুজ সংকেত দিলেই আকাশপথে হামলা শুরু হবে।

মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত স্বাক্ষর করেননি। কারণ, পর্দার আড়ালে স্বার্থসংশ্লিষ্ট কয়েকটি দেশের কূটনীতিকরা একটি শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের মূল লক্ষ্য—আলোচনার মাধ্যমে ইরানকে বুঝিয়ে কৌশলগত ও বাণিজ্যিকভাবে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় উন্মুক্ত করা।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব বাণিজ্যের ২৫% নিয়ন্ত্রণকারী হরমুজ প্রণালি যদি ট্রাম্পের হুমকিতে ইরান খুলে দেয়, তবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ট্রাম্প নিজেকে একক বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করতে পারবেন। একই সাথে মার্কিন ভোটারদেরও বোঝাতে পারবেন যে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও প্রাণঘাতী সামরিক অভিযানটি শেষ পর্যন্ত সফল ছিল।

ওয়াশিংটন থেকে নতুন করে আলোচনার এই বার্তা পাওয়ার কথা স্বীকার করেছে তেহরান। তবে মার্কিন প্রশাসনের উদ্দেশ্য নিয়ে গভীর অবিশ্বাস প্রকাশ করেছে তারা। উল্লেখ্য, এর আগে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলাকালেই মার্কিন বাহিনী দুই দুবার ইরানের ওপর সরাসরি সামরিক হামলা চালিয়েছিল।

এনএন/ ১৭ মে ২০২৬



Scroll to Top