যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য এক অভাবনীয় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে সম্প্রতি শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ (অপারেশন এপিক ফিউরি) এবং এর ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাকে কঠিন করে তুলেছে। মিত্র দেশগুলোর সমর্থনহীন এই যুদ্ধে প্রতিদিন কোটি কোটি ডলার পুড়ে যাচ্ছে, তবে এখনো কোনো দৃশ্যমান ফলাফল নেই। পাশাপাশি, প্রশাসনের ভেতর থেকেও ট্রাম্প বড় ধরনের বিরোধিতার মুখে পড়ছেন।
যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র একক অবস্থানে পড়ে গেছে। ঐতিহ্যবাহী মিত্র দেশগুলো—যেমন ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসমূহ, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া—কেউই সামরিক সহায়তা বা সমর্থন দেয়নি। ন্যাটো মিত্ররাও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সহায়তার ডাক প্রত্যাখ্যান করেছে, যা মার্কিন সামরিক ইতিহাসে বিরল ঘটনা।
বুধবার (১৮ মার্চ) পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনে যুক্তরাষ্ট্র ১১ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করেছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার মিসাইল নিক্ষেপ, বিমান হামলা ও সামরিক কার্যক্রমে খরচ হচ্ছে। তবে এত বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও কোনো কাঙ্ক্ষিত ফলাফল নেই। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বর্তমান সরকারকে উৎখাত বা ‘রেজিম চেঞ্জ’ ঘটাতে ব্যর্থ হয়, তবে সাধারণ ভোটাররা এই ব্যর্থতা মেনে নেবে না।
গত ১৭ মার্চ ‘ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টার’-এর পরিচালক জো কেন্ট যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে সরাসরি ট্রাম্পের প্রতি প্রশ্ন তুলে পদত্যাগ করেন। পদত্যাগপত্রে তিনি বলেন, আমি কোনোভাবেই পরবর্তী প্রজন্মকে এমন যুদ্ধে লড়াই করতে পাঠাতে পারি না, যা আমেরিকান জনগণের উপকারে আসে না। কেন্ট আরও দাবি করেন, ইরান কোনো আসন্ন হুমকি ছিল না এবং যুদ্ধের পেছনে ইসরায়েল ও শক্তিশালী আমেরিকান লবির প্রভাব ছিল। তিনি ট্রাম্পকে তার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়াচ্ছে। মিত্রদের সহযোগিতা ছাড়া প্রতিদিন শত শত বিলিয়ন ডলার অপচয়, এবং জো কেন্টের পদত্যাগ, ট্রাম্পকে ঘায়েল করার জন্য ডেমোক্র্যাটদের জন্য নতুন অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন জানিয়েছেন, ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেলে ট্রাম্পকে অভিশংসনের চেষ্টা করতে পারে। ইতিমধ্যেই তারা যুদ্ধ, অর্থের অপচয় এবং মিত্রদের অসহযোগিতাকে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করতে প্রস্তুত। বিশ্লেষকরা বলেন, চলমান ইরান যুদ্ধ, অর্থনৈতিক চাপ, মিত্রদের মুখ ফিরানো এবং প্রশাসনের ভেতরের ফাটল ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা কেবল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণের লড়াই নয়; এটি সরাসরি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং সম্ভাব্য অভিশংসনের ভাগ্য নির্ধারণকারী মঞ্চে রূপ নিয়েছে।





