মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসের রিপাবলিকান সদস্যদের বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ খুব দ্রুতই শেষ হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি এই সামরিক অভিযানকে সমর্থন জানিয়ে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যও তুলে ধরেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এতে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং নৌবাহিনীর সম্পদসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বড় ধরনের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। অভিযানের প্রথম দিনেই নিহত হন ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
যুদ্ধ এখন দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। এ সময় ট্রাম্প তার সাম্প্রতিক বক্তব্যে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র সাফল্যের কথা তুলে ধরে বলেন, অভিযানটি শিগগিরই শেষ হতে পারে।
‘স্বল্পমেয়াদি অভিযান’ হিসেবে দেখছেন ট্রাম্প
ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপকে ট্রাম্প ছোট একটি অভিযান” বলে বর্ণনা করেন। তার ভাষায়, কিছু অশুভ শক্তিকে নির্মূল করতে এই পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর অসাধারণ সক্ষমতার কারণে এটি একটি স্বল্পমেয়াদি অভিযান হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
এই সংঘাতের কারণে অর্থনীতিতে সামান্য প্রভাব পড়েছে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, অর্থনীতি দ্রুতই ঘুরে দাঁড়াবে এবং এই ধাক্কা কাটিয়ে উঠবে।
যুদ্ধ ‘খুব দ্রুত শেষ হবে বলে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ “খুব দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে”। এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর “দক্ষতা ও অসাধারণ কাজ” বড় ভূমিকা রাখছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তার মতে, ইরানের প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাও ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। ড্রোন তৈরির স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, অভিযান শেষ হলে বিশ্ব আরও নিরাপদ হবে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তিন দিনের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের ৪৬টি আধুনিক যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে।
এক সামরিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথোপকথনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তিনি জানতে চেয়েছিলেন কেন জাহাজগুলো দখল না করে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে। জবাবে ওই কর্মকর্তা নাকি বলেন, ডুবিয়ে দেওয়া বেশি নিরাপদ।
এক সপ্তাহের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে হামলার পরিকল্পনা ছিল
ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান খুব শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। যদিও এ দাবির পক্ষে তিনি বা তার প্রশাসনের কেউই কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। তার ভাষায়, এক সপ্তাহের মধ্যেই তারা আমাদের ওপর হামলা করত শতভাগ নিশ্চিত।
তিনি আরও দাবি করেন, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর দিকেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তাক করা ছিল।
ইরানি নেতৃত্ব নিহত হওয়ায় সন্তোষ
ট্রাম্প বলেন, ইরানের কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন এবং এখন দেশটির নেতৃত্ব কে দেবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি তার প্রথম মেয়াদে পরিচালিত অভিযানে নিহত ইরানের কুদস ফোর্সের কমান্ডার কাসেম সোলাইমানির কথাও উল্লেখ করেন। ট্রাম্প তাকে রোডসাইড বোমার জনক বলে উল্লেখ করেন।
আমরা অনেকভাবে জিতেছি, কিন্তু যথেষ্ট নয়
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অনেক দিক থেকেই ইতোমধ্যে সফলতা পেয়েছে, তবে অভিযান এখানেই শেষ নয়। তার ভাষায়, আমরা অনেকভাবে জিতেছি, কিন্তু এখনও যথেষ্ট জয় পাইনি।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের এই হুমকি চূড়ান্তভাবে শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্র আরও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাবে।
নতুন সর্বোচ্চ নেতা নিয়ে হতাশা
ইরানে আলী খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করায় হতাশা প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প।
তিনি বলেন, এতে মনে হচ্ছে দেশটিতে আগের সমস্যাগুলোই চলতে থাকবে।
নতুন নেতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, এ বিষয়ে মন্তব্য করা উপযুক্ত হবে না। তবে ইসরায়েল ইতোমধ্যে জানিয়েছে, প্রয়োজনে নতুন ইরানি নেতাকেও হত্যার চেষ্টা করা হতে পারে।




