
ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপের অন্তত ১১টি দেশের সুপারমার্কেটে সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিমাগার ও রেফ্রিজারেশন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে নষ্ট হয়েছে বিপুল পরিমাণ খাবার। ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্ন হামলা নয় বলে উল্লেখ করে যৌথভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলার উদ্যোগ নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
মঙ্গলবার জার্মানি, রোমানিয়া ও যুক্তরাজ্যে হামলার খবর প্রকাশের পর আক্রান্ত দেশের সংখ্যা বেড়ে ১১টিতে দাঁড়ায়। এর আগে সোমবার বেলজিয়াম, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল ও সুইডেনে একই ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।
বুধবার (৪ নভেম্বর) আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীও এর দায় স্বীকার করেনি। তবে রোমানিয়ার একজন শীর্ষ সাইবার নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, এর পেছনে কোনো রাষ্ট্রীয় পক্ষ জড়িত বলে তারা মনে করছেন না।
ইইউর মুখপাত্র থমাস রেগনিয়ের জানান, হামলার বিষয়ে সদস্য দেশগুলোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জোটের বিভিন্ন সংস্থা আলোচনা করছে। এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাইবার হামলা মোকাবিলায় সম্মিলিতভাবে প্রস্তুত ও সক্ষম হতে হবে। তবে হামলার জন্য কোনো পক্ষকে দায়ী করতে রাজি হননি তিনি।
রোমানিয়ার জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা অধিদপ্তরের পরিচালক ড্যান চিম্পিয়ান বলেন, হামলাগুলো কিছুটা অপেশাদার ধরনের বলে মনে হচ্ছে। এর পেছনে রাষ্ট্রীয় পক্ষ রয়েছে বলে তারা সন্দেহ করছেন না। এ ছাড়া অন্য কোনো অবকাঠামো আক্রান্ত হয়নি বলেও জানান তিনি।
সোমবার বেলজিয়াম সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি ছিল। দেশটির বিভিন্ন সুপারমার্কেট চেইনের কয়েক ডজন দোকানে হিমাগারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দেয়। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় কৌঁসুলিরা।
ইতালিতে প্রায় ২০টি সুপারমার্কেট আক্রান্ত হয়েছে। সিসিলিতে কোপ সুপারমার্কেট পরিচালনাকারী একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক জুসেপ্পে স্পাদারো জানান, তাদের ৩০০টি দোকানের মধ্যে চারটিতে হামলা হয়েছে। এতে কয়েক হাজার ইউরোর ক্ষতি হয়েছে। ইতালির পত্রিকা কোরিয়েরে দেলা সেরাকে তিনি বলেন, আক্রান্ত দোকানগুলোর সব খাবার ফেলে দিতে হয়েছে এবং তাকগুলো খালি হয়ে গেছে।
হামলার পর মঙ্গলবার দেশটির সরকার গোয়েন্দা সংস্থা ও জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করে। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, হামলার প্রভাব সীমিত ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থাকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যে হ্যাকাররা ছোট মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করলেও এর প্রভাব ছিল সামান্য। দেশটির জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী রিচার্ড হর্ন বিবিসিকে বলেন, এ সমস্যা পুরো খাদ্য সরবরাহব্যবস্থাকে প্রভাবিত করেছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ প্রযুক্তির সুযোগ নিয়েছে হামলাকারীরা।
গত অক্টোবরে ফ্রান্সের শত শত সুপারমার্কেটে একই ধরনের সাইবার হামলা হয়েছিল। ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশের দোকানেও এর প্রভাব পড়ে। সাম্প্রতিক হামলাগুলোকে ওই ঘটনার দ্বিতীয় ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সুইডেনের সুপারমার্কেট চেইন কোপ জানিয়েছে, তাদের সাতটি দোকানের রেফ্রিজারেটর ও ফ্রিজার আক্রান্ত হয়েছিল। এসব যন্ত্র পুরোনো ৪জি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তবে দোকানগুলোতে এখন স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। হামলার পর প্রতিষ্ঠানটি রেফ্রিজারেশন ব্যবস্থা আধুনিক ৫জি নেটওয়ার্ক ও নতুন মডেমে স্থানান্তরের কাজ দ্রুত করছে।
এদিকে, ডেনমার্কের রেফ্রিজারেশন নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ড্যানফস জানিয়েছে, গত তিন সপ্তাহ ধরে তারা গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। প্রতিষ্ঠানটি এসব নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সরাসরি ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত না রাখার পরামর্শ দিয়েছে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ফ্রাঙ্ক গ্রোনেভেগেনও খুচরা বিক্রেতাদের রেফ্রিজারেশন নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত আছে কি না এবং সেগুলোতে সর্বশেষ নিরাপত্তা হালনাগাদ করা হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার পরামর্শ, এ বিষয়ে নিশ্চিত না হলে দ্রুত সিস্টেমগুলোকে উন্মুক্ত ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে। এতে হামলার মূল কারণ দূর না হলেও আপাতত হামলাকারীদের প্রবেশের সুযোগ বন্ধ করা সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
