Last Updated:
Honey Bee Attack : প্রতিদিনের মতো সকালে হাঁটতে বেরিয়ে ইনকাম ট্যাক্স দফতরের অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর মৌমাছির আক্রমণে মৃত্যু।

পুরুলিয়া, শান্তনু দাস: প্রভাতের নিস্তব্ধতা আর প্রকৃতির সজীবতার টানে রোজ সকালেই হাঁটতে বেরতেন শীতল মিশ্র (৬৭)। অবসরপ্রাপ্ত আয়কর বিভাগের এই কর্মচারীর বাড়ি পুরুলিয়ার কাশিপুরের সিমলায়। সেখান থেকে সিমলা জোড় পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার পথ হাঁটা ছিল তাঁর নিত্যদিনের অভ্যাস। পথের ধারের একটি গাছে বহুদিন ধরেই ঝুলে ছিল একটি বিশাল মৌচাক।
মাঝে মাঝে পাখির ঠোকরে মৌমাছিদের উড়ে বেড়াতে দেখাও পাওয়া যেত। সেই নিঃশব্দ বিপদ যে একদিন প্রাণঘাতী হয়ে উঠবে, তা শীতলবাবু কখনও ভাবতেও পারেননি। শীতল মিশ্রের ভাই তপন মিশ্র জানান, “অন্যান্য দিনের মতই দাদা এদিনও হাঁটতে বেরিয়েছিলেন। হঠাৎ খবর পাই, স্থানীয় সিমলা জোড়ের কাছে রাস্তার ধারে মৌমাছির হুলে দাদাকে গুরুতর কামড় দিয়েছে। দ্রুত সেখানে পৌঁছে দেখি, দাদার পুরো শরীরজুড়ে হুলের দাগ, মুখ, গলা, চোখ ফুলে উঠেছে।
এমনকি তাঁর জামার ভেতরেও কয়েকটি মৌমাছি আটকে ছিল। স্থানীয়দের সহায়তায় দাদাকে দ্রুত কাশীপুর কল্লোলী গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে মৃত্যু হয় ওই ব্যক্তির। অন্যদিকে কাশীপুর ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা: অসীমা মোই জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই শীতল বাবুর মৃত্যু হয়। তবে প্রাথমিকভাবে আমরা অনুমান করছি মৌমাছির হুলে দেহে বিষ প্রবেশ করে দ্রুত রক্তচাপ কমে গিয়ে শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে শীতল বাবুর।”
দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের শল্য চিকিৎসক নয়ন মুখোপাধ্যায় বলেন, “মৌমাছির হুলে শরীরে বিষ ঢোকে, যা রক্তনালী ও কণিকাকে ফুলিয়ে তোলে। ফলে এই অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসা না পেলে শ্বাস বন্ধ হয়ে মৃত্যু ঘটে যায়।” হঠাৎ এই মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে শীতল মিশ্রের পরিবারসহ সিমলা গ্রামে। নিয়মিত সকালবেলার হাঁটায় যিনি সকলের পরিচিত মুখ ছিলেন, তার এমন মর্মান্তিক পরিণতি এলাকাবাসীকেও হতবাক করে দিয়েছে।
Puruliya (Purulia),Puruliya,West Bengal
November 18, 2025 10:38 AM IST
আয়কর বিভাগের প্রাক্তন কর্মচারী বেরিয়েছিলেন হাঁটতে, পথে ঘিরে ধরল একদল মৌমাছি! তারপর মর্মান্তিক পরিণতি