বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনকুবের ও টেসলা, স্পেসএক্স এবং এক্সএআই-এর প্রধান ইলন মাস্ক বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিশ্বের সব মানুষের সম্মিলিত বুদ্ধিমত্তাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে তার বিশ্বাস, এই প্রযুক্তি মানবজাতির জন্য ধ্বংসের চেয়ে সমৃদ্ধির নতুন যুগই বয়ে আনবে।
দ্য ইকোনমিস্ট-এর প্রধান সম্পাদক জানি মিন্টন বেডোসকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে মাস্ক বলেন, প্রায় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এআই মানুষের সম্মিলিত বুদ্ধিমত্তাকে অতিক্রম করতে পারে। সম্ভবত মানুষ হওয়া ছাড়া এমন কোনো কাজ থাকবে না, যা এআই মানুষের চেয়ে ভালো করতে পারবে না।
সাক্ষাৎকারে মাস্ক সতর্ক করে বলেন, আগামী এক দশকের মধ্যে মানুষ এআইয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে কি না, তা নিয়ে তিনি আশাবাদী নন।
তার ভাষায়, যদি এআই মানুষের তুলনায় অনেক বেশি বুদ্ধিমান হয়ে ওঠে, তাহলে মানুষের সঙ্গে এআইয়ের সম্পর্ক অনেকটা মানুষের সঙ্গে শিম্পাঞ্জির সম্পর্কের মতো হতে পারে।
মানুষ তখনও নিয়ন্ত্রণে থাকবে কি না জানতে চাইলে মাস্ক সংক্ষেপে বলেন, আমার মনে হয়, সেটি হওয়ার সম্ভাবনা কম।
এআই ও রোবটের ঝুঁকি পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি মাস্ক। তিনি বলেন, এআই ও রোবটের সঙ্গে ঝুঁকি অবশ্যই রয়েছে। ঝুঁকি শূন্য নয়।
তবে তার মতে, সবচেয়ে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ হলো এমন এক সময়, যখন প্রযুক্তির কারণে অভাবের পরিবর্তে প্রাচুর্য তৈরি হবে।
তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে সম্ভাব্য ফলাফল হলো এমন এক যুগ, যেখানে মানুষ যা কল্পনা করতে পারবে, তা-ই পাওয়ার সুযোগ থাকবে। ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি আশাবাদী এবং উত্তেজিত।’
এআই শিল্পের বিকাশে নিজের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন মাস্ক। তিনি জানান, গুগলের প্রভাব মোকাবিলার উদ্দেশ্যে ওপেনএআই প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটিই এআই উন্নয়নের গতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, যা তার মূল উদ্দেশ্য ছিল না।
মাস্ক বলেন, ‘আমার নেওয়া পদক্ষেপগুলো শেষ পর্যন্ত এমন প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে, যা এআইয়ের অগ্রগতিকে আরও দ্রুত করেছে। এটি আসলে আমার উদ্দেশ্য ছিল না। এখন মনে হচ্ছে, সব পথই এআইকে আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার দিকে যাচ্ছে।’
এআই-সংক্রান্ত ঝুঁকি কমাতে শীর্ষস্থানীয় এআই কোম্পানিগুলোর মধ্যে নিয়মিত বৈঠকের আহ্বান জানান মাস্ক।
তার মতে, শুধু সরকারের নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভর না করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলো একে অপরের এআই মডেল জনসমক্ষে প্রকাশের আগে নিরাপত্তা পর্যালোচনা করতে পারে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করতে পারে।
তিনি বলেন, এআই উন্নয়নকারী শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সপ্তাহে বা অন্তত দুই সপ্তাহে একবার নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করা উচিত। কোনো প্রতিষ্ঠান গুরুতর নিরাপত্তা উদ্বেগ উপেক্ষা করলে তবেই সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের সমালোচনা করে মাস্ক বলেন, ওপেনএআই তাদের প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য থেকে সরে এসেছে।
তার অভিযোগ, ওপেন সোর্স ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে শুরু হলেও ওপেনএআই এখন বিপুল মূল্যমানের লাভজনক ও ক্লোজড-সোর্স প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, আমি স্যাম অল্টম্যানের ভক্ত নই। আমি যে উদ্দেশ্যে অর্থ দিয়েছিলাম, বর্তমান ওপেনএআই তার সম্পূর্ণ বিপরীত পথে গেছে।
অন্যদিকে অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেইর প্রশংসা করে মাস্ক বলেন, তিনি নীতিবান এবং বিশ্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তরিকভাবে চিন্তা করেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, শুধু ভালো উদ্দেশ্য থাকলেই এআইয়ের ঝুঁকি দূর হবে না।
ব্যক্তিগত মতপার্থক্য থাকলেও এআই নিরাপত্তার প্রশ্নে সব প্রতিষ্ঠানের একসঙ্গে কাজ করা উচিত বলে মনে করেন মাস্ক।
তার ভাষায়, দিন শেষে যদি আমাদের কথা বলতে হয়, আমরা কথা বলব। বিশ্বের স্বার্থে ব্যক্তিগত মতভেদ এক পাশে রাখতেই হবে।



