এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাজনীতির কঠিন মঞ্চ থেকে সামান্য বিরতি নিয়ে নিজ জন্মভূমির প্রতি আত্মিক টানকে নতুনভাবে প্রকাশ করলেন কবি আহসান হাবীবের কালজয়ী কবিতা “আমি কোনো আগন্তুক নই” আবৃত্তির মধ্য দিয়ে।
গত মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ঠাকুরগাঁওয়ের পৈতৃক বাসভবনের বারান্দায় বসে তিনি আবৃত্তি করেন বিখ্যাত এই কবিতাটি।
ব্যস্ত রাজনৈতিক সূচি থেকে কিছুটা ফুরসত পেয়ে মির্জা ফখরুল ফেরেন নিজ বাড়িতে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জেলা আইনজীবী সমিতির হলরুমে আইনজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে তিনি তাঁতিপাড়া মহল্লার বাড়িতে যান। সেখানে অধ্যাপনা জীবনের সহকর্মী ও স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে ঘরোয়া আড্ডার এক পর্যায়ে তিনি কবিতাটি আবৃত্তি করেন।
ঠাকুরগাঁও চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক মামুন উর রশিদ বলেন, “ব্যক্তিগত ও শৈল্পিক এই মুহূর্তটি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। রাজনৈতিক ব্যস্ততার মাঝে একজন শীর্ষ নেতার এভাবে স্বাচ্ছন্দে নিজেকে প্রকাশ করা সাধারণ মানুষের কাছে ভিন্ন একটি আবেদন তৈরি করেছে।”
আহসান হাবীবের কবিতাটি জন্মভূমির প্রতি এক গভীর ভালোবাসা ও একাত্মতার প্রতীক। আবৃত্তির সময় মির্জা ফখরুলের উচ্চারণ করা কবিতার শক্তিশালী চরণগুলো তার নিজের জন্মভূমি ঠাকুরগাঁওয়ের সঙ্গে আত্মিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে তোলে—
“আমি কোনো আগন্তুক নই
এই খর রৌদ্র জলজ বাতাস মেঘ ক্লান্ত বিকেলের পাখিরা আমাকে চেনে
তারা জানে আমি কোনো অনাত্মীয় নই।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মির্জা ফখরুলের এই আবৃত্তির নেপথ্যে একটি গভীর রাজনৈতিক বার্তাও আছে। দেশের মাটি ও মানুষের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সম্পর্ককে তিনি নতুন করে সামনে এনেছেন। এটি তার রাজনৈতিক বিরোধীদের উদ্দেশ্যেও এক প্রকার প্রতীকী বার্তা—তিনি এই দেশেরই সন্তান; কোনো ‘অনাত্মীয়’ নন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে চ্যানেল আইকে বলেন, “মির্জা ফখরুল একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। তিনি জানেন কীভাবে ব্যক্তিগত অনুভূতির মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে হয়। এই আবৃত্তি কর্মীদের উৎসাহ যোগাবে এবং সাধারণ মানুষের কাছে তার ‘মাটি-সংলগ্ন’ ইমেজ আরও দৃঢ় করবে।”
পারিবারিক আবহে হলেও দেশের শীর্ষ রাজনীতিবিদের কণ্ঠে উচ্চারিত এই দেশাত্মবোধক বার্তা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। এটি একদিকে কর্মীদের চাঙা করেছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের কাছেও দেশপ্রেমের একটি স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।




