
ঢাকা, ২৬ আগস্ট – আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গুমের শিকার হওয়া অন্তত ২৫০ জন ব্যক্তির নিখোঁজ থাকার বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
মঙ্গলবার দুপুরে ট্রাইব্যুনালের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রসিকিউটর জানান যে তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে এসব ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে অপহরণের শিকার হয়েছেন। প্রসিকিউশন এই ধরনের গুমের ঘটনাগুলোকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
গুমের মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে আমিনুল ইসলাম বলেন যে বর্তমানে প্রায় ২৫০ জন ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ নিয়ে কাজ চলছে। তদন্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হচ্ছে।
যেসব স্থান থেকে অপহরণের ঘটনাগুলো ঘটেছিল সেগুলো ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিটি মামলা নিখুঁতভাবে তদন্ত করার কারণে সময় কিছুটা বেশি লাগছে তবে নিখোঁজ ব্যক্তিদের অভিযোগগুলো চলমান অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান যে গুমের বিচারে কোনো ধরনের রাজনৈতিক পরিচয় বা বৈষম্য দেখা হবে না। জামায়াতে ইসলামী কিংবা বিএনপি অথবা সাধারণ নাগরিক নির্বিশেষে সব ভুক্তভোগীর বিচার সমানভাবে নিশ্চিত করা হবে।
বর্তমানে তিনটি গুমের মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে যেখানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অব. আবদুল্লাহিল আমান আযমী ও ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমানের মতো ভুক্তভোগীরা রয়েছেন। পাশাপাশি ইলিয়াস আলীর মতো নিখোঁজ নেতাদের মামলার তদন্তও সমান গুরুত্বের সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে।
তদন্ত কার্যক্রম গতিশীল করতে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে এবং চিফ প্রসিকিউটর নিজে এই কার্যক্রম সমন্বয় করছেন।
এদিন মায়ের ডাক সংগঠনের সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলির নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল প্রসিকিউটরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে থেকে তদন্ত সম্পন্ন করার অনুরোধ জানান।
এনএন/ ২৬ আগস্ট ২০২৬


