অ্যামোনিয়া সংকটে আনোয়ারার ডিএপি সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ – DesheBideshe

অ্যামোনিয়া সংকটে আনোয়ারার ডিএপি সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ – DesheBideshe


অ্যামোনিয়া সংকটে আনোয়ারার ডিএপি সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ – DesheBideshe

চট্টগ্রাম, ১৯ এপ্রিল – অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট (ডিএপি) সার কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।

শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানাটির মজুত অ্যামোনিয়া শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়।

কারখানার ব্যবস্থাপক আলমগীর জলিল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, মজুত থাকা কাঁচামাল দিয়ে এতদিন উৎপাদন চালু রাখা সম্ভব হয়েছিল। তবে নতুন করে সরবরাহ না আসায় মজুত পুরোপুরি ফুরিয়ে গেছে এবং এর ফলে উৎপাদন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, গত ৪ মার্চ থেকে গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডে (কাফকো) উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ডিএপি কারখানাটি তার প্রয়োজনীয় অ্যামোনিয়ার জন্য মূলত এই দুই প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে। ওই কারখানা দুটিতে উৎপাদন স্থবির হয়ে পড়ায় ডিএপি কারখানার কাঁচামাল সরবরাহ ব্যবস্থাও বিঘ্নিত হয়।

কারখানাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ থাকলেও মজুত ব্যবহার করে উৎপাদন অব্যাহত রাখা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরবরাহ সচল না হওয়া পর্যন্ত পুনরায় উৎপাদন শুরু করা সম্ভব নয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে এই সংকটের ফলে দেশের সার সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

২০০৬ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসা এই কারখানাটি বিসিআইসি এর অধীনে পরিচালিত হয়। এটি দেশের কৃষিখাতে সুষম সারের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দুটি ইউনিটের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৮০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদনের ক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে তা ৬০০ থেকে ৭০০ মেট্রিক টনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।

অন্য কারখানাগুলো বন্ধ থাকার সময়ও এই ইউনিটে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন ডিএপি সার উৎপাদিত হচ্ছিল যা এখন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল।

এনএন/ ১৯ এপ্রিল ২০২৬



Scroll to Top