অস্ত্র হাতে মহড়া: সাবেক ছাত্রদল নেতাকে ছেড়ে দেওয়ায় থানা ঘেরাও | চ্যানেল আই অনলাইন

পাবনার ঈশ্বরদীতে কাফনের কাপড় জড়িয়ে লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে মহড়া দেওয়া সাবেক ছাত্রদল নেতা জুবায়ের হোসেন বাপ্পিকে আটক করে পরে মুচলেকায় ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে থানা ঘেরাও ও সড়ক অবরোধ করেছেন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের একাংশের নেতাকর্মীরা।

সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে বাপ্পিকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার পর মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী থানার সামনে অবস্থান নেন নেতাকর্মীরা। তারা সড়কও অবরোধ করেন। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলা অবরোধে সড়কের দুই পাশে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়।

অবরোধকারীরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, শরিফুল ইসলাম তুহিন ও ইমরুল কায়েস সুমনসহ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। বাপ্পিকে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় ঈশ্বরদী থানার ওসি আশাদুর রহমানের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

রাত ৮টার দিকে বিএনপির কয়েকজন নেতা থানায় গিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার ও ওসি আশাদুর রহমানের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে অবরোধ স্থগিত করা হয়। তবে থানা ফটকের সামনে আয়োজিত পথসভায় নেতারা প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসান বলেন, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তারা হতাশ। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে সড়ক ছেড়ে গেলেও জনগণের স্বার্থে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

ঈশ্বরদী থানার ওসি আশাদুর রহমান আসাদ বলেন, জুবায়ের বাপ্পির বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। তাকে পাবনা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। পরে সোমবার রাতে ডিবি তাকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়।

ওসি জানান, বাপ্পির হাতে থাকা শটগানটি তার নিজের নামে লাইসেন্স করা। তবে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দেওয়ার ঘটনায় এর লাইসেন্স বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।

যেভাবে প্রকাশ্যে মহড়া

এর আগে সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঈশ্বরদী শহরের কলেজ রোডে নিজের বাড়ি থেকে লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র হাতে বের হন বাপ্পি। তার মাথায় ছিল কাফনের কাপড়। পরে প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক হেঁটে অস্ত্র হাতে মহড়া দেন তিনি। এ সময় দাশুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সুলভ মালিথাকে তার পাশে হাঁটতে দেখা যায়।

পরে রেলগেটের জিরো পয়েন্টে গিয়ে বাপ্পি দাবি করেন, তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। হুমকিদাতাদের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বক্তব্যও দেন তিনি। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি থানায় যান।

খবর পেয়ে ছাত্রদল, যুবদল ও জামায়াতে ইসলামীর একদল নেতাকর্মী থানায় গিয়ে তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। একপর্যায়ে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। পরে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হলেও সেখান থেকে মুচলেকায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

কোনো সাংগঠনিক পদে না থাকলেও বাপ্পি নিজেকে ছাত্রদলের সাবেক নেতা হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

Scroll to Top