নাটক-সিনেমায় ছোট ছোট কমেডি চরিত্রে দর্শকদের হাসিয়েছেন বহু বছর। অথচ আজ সেই পরিচিত মুখ শামীম হোসেন কাজের অভাবে দিশেহারা। একদিন আগেই ফেসবুকে অশ্রুসিক্ত ভিডিও বার্তায় ‘অর্থকষ্টে’ থাকার কথা জানান তিনি।
আর বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগ রেললাইনে বসে চ্যানেল আই অনলাইনের এই প্রতিবেদকের কাছে খুলে বলেন তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়ের কথা।
“অভিনয় পেশা বদল করতে গেলেও তো কিছু একটা করতে হবে। চেহারাটা এমন মার্কা মারা, সেটাও তো পারতেছি না। না পারমু বাদাম বেচতে, না পারমু কাঁচামালের ব্যবসা করতে, না পারমু অটোরিক্সা চালাইতে। শিল্পী তো, আরেকটা শিল্পীর অপমান হবে। সেই কারণে নিজেই না খেয়ে রইছি”—কথাগুলো বলতে বলতে বারবার গলা ভারী হয়ে আসে তার।
শামীম জানান, প্রায় এক বছর ধরে নিয়মিত নাটকে কাজ নেই। যাদের সঙ্গে নিয়মিত কাজ হয়, তাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ নেই। আবার যাদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে, তারা সেভাবে কাজ করেন না। ইউটিউবনির্ভর কনটেন্ট নির্মাতা হারুন কিসিঞ্জারের কিছু কাজ করলেও গত দুই মাস ধরে সেখান থেকেও কোনো ডাক আসেনি।
তার পরিবারে পাঁচজন সদস্য। তিন ছেলে, স্ত্রী এবং তিনি নিজে। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় চাপটা পুরোপুরি তার ওপরেই। “জমানো সঞ্চয় নাই আমার। যেটুকু আছে, হয়তো কষ্ট করে রোজার মাসটা চলে যাবে।” বলেন শামীম হোসেন।
সবচেয়ে বেশি কষ্টের জায়গা সন্তানদের প্রসঙ্গে। শামীম বলেন, “আমার মাসুম বাচ্চাগুলোর কোনো চাওয়া নাই, কোনো চাহিদা নাই। আমি তাদের বলছি, ‘বাবারা, ঈদে তোমাদের কিছু লাগবে, পরিস্থিতি কিন্তু তোমরা দেখতেছো!’ ওরা বলে, ‘বাবা, কোনো চাওয়া নাই।’”
কথাগুলো বলতে বলতে তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। একজন বাবার অসহায়ত্ব যেন স্পষ্ট হয়ে ওঠে তার চোখেমুখে।
শামীম হোসেনের জীবনসংগ্রাম নতুন নয়। দুই দশকের বেশি আগে কুলিগিরি, রিকশা চালানোসহ নানা কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। ১৯৯৭ সালে বেইলি রোডের মহিলা সমিতির অফিসে পিওনের চাকরি নেন। সেখান থেকেই অভিনয়ে সুযোগ। আফসানা মিমির ডাকে ‘বন্ধন’ নাটকে কয়েকটি দৃশ্যে অভিনয়ের মাধ্যমে যাত্রা শুরু। এরপর হাজারো নাটক এবং দুই ডজনের বেশি চলচ্চিত্রে ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন।
কিন্তু সেই পরিচিতি আজ তার নিয়মিত আয়ের নিশ্চয়তা হয়ে দাঁড়ায়নি। অভিনয়ই তার পরিচয়, অথচ সেই পরিচয়ই যেন তাকে অন্য পেশায় যেতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শামীম মনে করেন, তার এই সংকটের কথা শুনে হয়তো কেউ না কেউ তাকে নিয়মিত কাজে ডাকবেন। চ্যানেল আই অনলাইনে বুধবার ‘হাতে কাজ নেই, অর্থকষ্টে যা বললেন অভিনেতা’ প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পর বেশ কয়েক জায়গা থেকে ফোন পেয়েছেন তিনি। তার আশা, হয়তো শিগগির তার বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন হবে।




